সামনে প্রশংসা, পেছনে নিন্দা: মানুষের দ্বিমুখী আচরণের কারণ
‘জানেন ভাই, রহমান সাহেব মানুষটা একদম সুবিধার না!’— অফিসের ক্যান্টিনে বা চায়ের আড্ডায় অত্যন্ত বিশ্বস্ত ভঙ্গিতে কথাটা বললেন আপনারই কোনো এক সহকর্মী। অথচ ঠিক আধঘণ্টা পর দেখলেন, সেই সহকর্মী রহমান সাহেবের কাঁধে হাত দিয়ে হাসিমুখে গল্প করছেন এবং ফিসফিস করে আপনারই কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন!
সমাজে এমন ‘মুখোশ’ পরা মানুষের অভাব নেই। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলা হয় ‘টু-ফেইসড’ বা দ্বিমুখী আচরণের মানুষ।
যার কাছে অন্য একজনের সমালোচনা করছে, আবার সুযোগ বুঝে তাকে নিয়েই আরেকজনের কাছে বিষোদগার করে যাচ্ছে।
আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ পরনিন্দা মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা।
মানুষ কেন এমন দ্বিমুখী আচরণ করে?
সাইকোলজি টুডে ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের মনোচিকিৎসক ডা. লিন্ডা বারম্যান-এর গবেষণা অনুযায়ী, কিছু মানুষ মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে এই কাজগুলো করে থাকেন।
মিথ্যা অন্তরঙ্গতা তৈরি: ডা. বারম্যানের মতে, অনেকে অন্যের সমালোচনাকে ‘সামাজিক আঠা’ হিসেবে ব্যবহার করে। আপনার সামনে অন্য কারও গোপন বা নেতিবাচক তথ্য বলে, সে বোঝাতে চায়— ‘আমি তোমাকে খুব বিশ্বাস করি।’ এতে সাময়িকভাবে একটি কৃত্রিম সম্পর্ক বা ‘বন্ডিং’ তৈরি হয়।
নিরাপত্তাহীনতা ও কম আত্মমর্যাদা: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ভেতরে ভেতরে তীব্র হীনম্মন্যতায় ভোগেন, তারা অন্যদের ছোট করে নিজেদের বড় দেখানোর চেষ্টা করে। অন্যের ব্যর্থতা বা ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করলে তাদের অবদমিত অহংকারে সাময়িক তৃপ্তি আসে।
‘সোশ্যাল স্ট্যাটাস’ বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা: অন্যের গোপন তথ্য নিজের কাছে রাখাকে এরা এক ধরনের ‘ক্ষমতা’ মনে করে। তথ্য আদান-প্রদান করে তারা অফিসের বা সামাজিকভাবে নিয়ন্ত্রণ, নিজের হাতে রাখতে চায়।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- আচরণ
- দ্বিমুখী নীতি