আমাদের বিশ্বকাপ এখনো সরব

কালের কণ্ঠ ইকরামউজ্জমান প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫

বিশ্বকাপ ফুটবল দেখি আর ভাবি, খেলাটি মানুষের সৃষ্টি হলেও পুরোপুরি নিয়তির খেলা। মাঠে এত কৌশলের বাস্তবায়ন, এত দক্ষতার প্রদর্শনী, খেলোয়াড়রা শতভাগ উজাড় করে দেওয়া সত্ত্বেও সবাই এক জায়গায় ধরা। সৃষ্টিকর্তার ‘ব্লেসিং’ ছাড়া উপায় নেই। সৃষ্টিকর্তা কাউকে তৃপ্তির হাসিতে হাসাচ্ছেন, আবার কাউকে কাঁদাচ্ছেন। সব তাঁর ফয়সালা। ফুটবল নিয়ে আমার-আপনার কত রকম চিন্তা-ভাবনা, হিসাব-নিকাশ, কিন্তু কেউ বলতে পারছে না শেষ পর্যন্ত কী অপেক্ষা করছে। বলা হয়, এটিই ফুটবলের সৌন্দর্য। সব হিসাব মিলে গেলে তো এটি বিশ্বকাপ থাকবে না।


ফুটবল নিয়ে অগণিত মানুষ মেতে আছে, অথচ এই ফুটবলের সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক নেই। তা সত্ত্বেও অন্যদের ফুটবল নিয়ে রীতিমতো উন্মাদনা। আবেগ আর উচ্ছ্বাসে ভেসে বেড়ানো। এখানেই ফুটবল নামের খেলাটির কল্যাণময়ী আকর্ষণের জয়। একবার ভাবুন তো, যখন আমাদের দেশ খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে, তখন অবস্থাটা কেমন হতে পারে? ফুটবল গড়াচ্ছে তার ইচ্ছা-মর্জি মাফিক। খেলা দেখতে বসে কখনো কখনো এই ফুটবলকে অপরিচিত মনে হয়। এতে বাড়ে অস্থিরতা আর উৎকণ্ঠা।

সমর্থিত দল লড়াই থেকে বিদায় নেওয়ায় কেউ কেউ দল বদল করেছে। না, এই দলবদলের সঙ্গে রাজনীতির নেতা ও কর্মীদের দলবদলের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি নেহাত ফুটবল বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য। ফুটবলের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। পরিচিত মহলে আমার বন্ধু জার্মানির বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলা আর দেখছেন না। এটি তাঁর আবেগ।


ফুটবলের সঙ্গে আছে জীবনের ভীষণ মিল। খেলাটি জীবনের ক্রীড়া সংস্করণ। জীবন কিভাবে পরিচালিত হবে, এটি তো আগাম বলা যাবে না—ফুটবলেও ঠিক একই অবস্থা। আর তাই জীবনের নিয়মে ফুটবলকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। জীবনে যেমন ভালো খেলোয়াড় জিতবেন—এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফুটবলেও একই অবস্থা। ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত অশ্রুঝরা চোখ নিয়ে দেশে ফিরে যেতে হয়েছে। ফুটবলের নিষ্ঠুরতা বড় কঠিন।


ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার বলেছেন, ‘জীবনের জন্য ফুটবল, জীবন উপভোগ করুন, সেই সঙ্গে ফুটবল। যদি ভেবে থাকেন, ফুটবলকে আপনার নিজের মতো করে দেখতে পারবেন, তাহলে ভুল হবে। ফুটবল চলে তার নিজস্বতা নিয়ে। এ ক্ষেত্রে কখনো প্রাপ্তি, আবার কখনো অপ্রাপ্তির স্বাদ মিলবে। দিনশেষে কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর খেলা ফুটবল। খেলাটি মানুষকে একত্র করে একের সঙ্গে অপরকে মেলায়। ফুটবলকে ভালোবাসাটাই আসল বিষয়।’


বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেভারিট নিয়ে সরাসরি ফুটবল পণ্ডিতরা কথা বলেননি। বিশ্বকাপে বিগত বছরগুলোতে যে আটটি দল শিরোপা জিতেছে, এই দলগুলোর বাইরে শিরোপা এবার যাবে না বলেছেন। বলছেন, নতুন কোনো দেশকে ফিফা ট্রফি উঁচিয়ে তুলে ধরার মতো অবস্থা তাঁরা দেখছেন না। ইউরোপ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর থেকে এগিয়ে আছে। ২০২২ সালে কাতারে শিরোপা জিতেছে লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা। আর রানার্স আপ ইউরোপের ফ্রান্স।


পণ্ডিতরা এবার প্রথম থেকেই তাঁদের দুর্বলতার পাল্লাটি ঝুঁকে রেখেছেন ফ্রান্স ও স্পেনের দিকে। তাঁরা লাতিন দেশের মধ্যে গতবার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ব্রাজিলের চেয়ে একটু বেশি এগিয়ে রেখেছেন। এই সবকিছুই তথ্য এবং বিভিন্ন ধরনের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বলা। মাঠে তো খেলেন খেলোয়াড়রা। তাঁদের খেলান কোচরা। আর খেলার রং তো তাঁরাই পাল্টান। চলমান বিশ্বকাপ ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছে। অতীতে শিরোপা বিজয়ী আট দলের মধ্যে তো ইউরোপ অঞ্চল থেকে কোয়ালিফাই করতে পারেনি ইতালি। সাত দল নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল। উরুগুয়ে আর জার্মানি এরই মধ্যে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ এবং গল্পের বাইরে চলে গেছে। এখনো লড়াইয়ে আছে ইউরোপের তিন দেশ ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন আর লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ফুটবল যেভাবে গড়াচ্ছে, তাতে গতবারের মতো এবারও যদি ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ হয়, তাহলে অবাক হব না।


বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নিয়ে মাতামাতি, উচ্ছ্বাস আর আবেগ প্রদর্শন। যেহেতু এই দুটি দল এখনো টিকে আছে—অতএব বাংলাদেশের বিশ্বকাপ উপভোগের বিষয়টি এখনো সজীব এবং প্রাণবন্ত আছে। এই দুই দলের মধ্যে যখনই খেলার নিয়মে কেউ বিদায় নেবে, তখনই বাংলাদেশে ফুটবল উপভোগের জমকালো বিষয়গুলো অনেকাংশে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়বে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ১৬ দলের খেলা। ব্রাজিল খেলবে নরওয়ের সঙ্গে, আর আর্জেন্টিনা মিসরের বিপক্ষে। লাতিন আমেরিকার এই দুই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। তা ছাড়া বিশ্বকাপে তো সব দলই লড়াইয়ে সমানে সমান। জাপানকে হারাতে ব্রাজিলের অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে।


ট্যাকটিশিয়ানের কৌশলের কাছে জাপান হেরেছে। এদিকে আর্জেন্টিনা জিতেছে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলে। তবে কেপ ভার্দের প্রতিরোধ, দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাস কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়েছে মেসির আর্জেন্টিনার। এবারের বিশ্বকাপে রিয়াল হিরো হলো কেপ ভার্দে। তারা বিগত দিনের দুটি বিশ্বকাপের বিজয়ী দলের সঙ্গে (উরুগুয়ে ও স্পেন) ড্র করেছে। ড্র করেছে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডে। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ এসে আর্জেন্টিনাকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল। বিশ্বকাপে তাদের প্রথম অভিযান সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতালিয়ান কোচ কি ষষ্ঠবারের মতো ব্রাজিলকে শিরোপা উপহার দিতে সক্ষম হবেন? যদি এটি হয়, তবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ইতিহাসে একজন বিদেশি কোচ দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও