প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর : কী অর্জন, কী বর্জন

যুগান্তর খন্দকার হাসনাত করিম প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১২

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া, বিশেষ করে চীনে রাষ্ট্রীয় সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ সফরই বলতে হবে। তার শহীদ পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়া ও জননী দেশনেত্রী বেগম জিয়াও এরকম মর্যাদাপূর্ণ চীনা আতিথেয়তায় মুগ্ধ করেছিলেন দেশবাসীকে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথোপযুক্ত আগ্রহ ও ইতিবাচক মূল্যায়নের নতুন বাস্তবতায় উন্নীত হয়েছে, যা ফুটে উঠেছে এ সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসাবে। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ও প্রতিরক্ষা কৌশলপটে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য অকল্পনীয়। দেখে খুশি হলাম যে, বিরোধীদলীয় নেতাও তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে সংসদে প্রশংসা করেছেন এবং এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।


এ সফরে চুক্তি স্বাক্ষরসহ ১৭টি সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা একটি বিরল ব্যতিক্রম। অতীতের এহেন শীর্ষ পর্যায়ের সফরে আর্থিক সহায়তা, প্রকল্প অর্থায়ন, সমঝোতা স্মারক এ পর্যায়ে সীমিত থাকত। এবারই প্রথম দুই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এ অঙ্কের বিশাল বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


সবচেয়ে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক গুরুত্ব বহন করেছে স্বাগতিক চীনা শীর্ষ নেতা শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকে। এর আগে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকটিও ছিল সমধিক গুরুত্বপূর্ণ। স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা দলিলাদির মধ্যে ছিল দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সংস্কারের বিষয়ে রূপরেখা প্রণয়ন, চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ ও কাঠামো সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি, ভূতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশে সহযোগিতা, চীনা মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্প্রচার কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সর্বোপরি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে যথোপযুক্ত অগ্রাধিকার প্রদান।


২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর বাংলাদেশ সফরকালে স্বাক্ষরিত চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন ও সংযোগ অবকাঠামোর প্রতীক যে বেল্ট অ্যান্ড রোড (বিআরআই) ইনিশিয়েটিভে যুক্ত হয়েছিল, তার ১০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ ঐতিহাসিক সফরে সেই বিশ্ববন্ধনই যেন মূর্ত হয়ে উঠল। সূচিত হলো বাংলাদেশ-চীন সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের এক নতুন যুগের।


মালয়েশিয়া সফর এবং একই যাত্রায় চীন সফরের মধ্য দিয়ে ‘বিএনপি’ সরকার জোটবলয় নির্বাচনে যথার্থই প্রাচ্যপ্রীতির এক সুদূরপ্রসারী কূটনৈতিক অভিমুখ তৈরি করেছে। এটাই বাংলাদেশের জন্য ‘বেস্ট অ্যান্ড স্মার্টেস্ট’ মুভ। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা তিন দিক দিয়ে একটি শত্রু রাষ্ট্র দ্বারা বেষ্টিত। এ বেষ্টনীর হিংস্র খাঁচায় থেকে স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণ সমুন্নত রাখতে আমাদের প্রাচ্যমুখী হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। এ প্রয়াসে আমাদের পাশে পেতে হবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, আরব বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে। চীনের ‘বিআরআই’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে তিক্ততা কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা রাখি। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মালয়েশিয়া বিশ্ব ফোরামে সব সময়ই সরব এবং সোচ্চার। জাতীয় স্বার্থ এবং মানবিকতার নিরিখে তাই মালয়েশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক, বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তির গন্তব্য হিসাবে মুসলিম মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনিবার্যতই অগ্রাধিকারযোগ্য।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও