মুস্তাফা মনোয়ার: শিল্পের জন্য এক জীবন

বিডি নিউজ ২৪ প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ১৪:৫৩

কেউ স্মরণ করেছেন ‘নতুন কুঁড়ি’র কারিগরকে, কেউ ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’কে, কেউ ভাবছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায় রবি ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ পেছনের মানুষটিকে। তিনি মুস্তাফা মনোয়ার। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিল্পকে তিনি করেছেন বর্ণিল ও বাঙময়।


সাত বছর আগে একটি বেসরকারি টেলভিশন স্টেশনে তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মুস্তাফা মনোয়ার বলেছিলেন, “জন্মদিন মানেই একটা বছর বেড়ে যাওয়া। ছোটবেলায় খুব ভালো লাগত। একসময় দেখলাম বড় হওয়া তো ভালো না, ছোট থাকাই ভালো।”


তিনি মনে করতেন মনের কোনো বয়স নেই।


তার কথায়, “বয়সটা দুই রকম। একটা অঙ্কের ব্যাপার, আরেকটা মনের তৃপ্তির ব্যাপার। পৃথিবীকে দেখার ব্যাপার, পৃথিবীকে ভালোবাসার ব্যাপার। সেইখানে বয়স বাড়ে না।”


বয়সের সেই হিসেবকে চিরতরে থামিয়ে মুস্তাফা মনোয়ার জাগতিক ভ্রমণ শেষ করে পাড়ি দিয়েছে অনন্ত যাত্রায়।


ওই অনুষ্ঠানে মুস্তাফা মনোয়াররে কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল তরুণদের নিয়ে আশার বাণী। তিনি বলেছিলেন, “আমরা দিনের আলোতে যা কিছু দেখি, তার চেয়েও বেশি দেখতে পাই রাতের অন্ধকারে। আমাদের তরুণদের জীবনে অনেক স্বপ্ন আছে।”


তিনি বলেছিলেন তরুণদের সেই স্বপ্নই দেশকে বাঁচিয়ে রাখবে, উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।


মুস্তাফা মনোয়ারের হাতে ধরে দেশের পাপেটশিল্প পৌঁছেছিল অনন্য উচ্চতায়। তার সৃষ্টি পাপেট চরিত্র ‘পারুল’ এর সম্বোধনে তিনি ছিলেন ‘শিল্পী ভাই’। সেই থেকে কয়েক প্রজন্মের শিশু-কিশোরের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন ‘শিল্পী’ ভাই।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী, মুনীর চৌধুরীর ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ সবখানেই ছিল তার কাজ ও সৃজনশীলতার ছাপ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম স্থপতিও তিনি।


দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই সব্যসাচী শিল্পীর মৃত্যু হয়। মুস্তাফা মনোয়ারের বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।


বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর টান ছেলেবেলা থেকেই


চারুশিল্পী, নাট্যনির্দেশক, শিল্প গবেষক, বাংলাদেশে পাপেট চর্চার অন্যতম প্রাণপুরুষ-বহু পরিচয়ে পরিচিত তিনি। তার এত পরিচয়ের পেছনের কারণ পারিবারিক আবহ। তার বাবা কবি গোলাম মোস্তফা, যিনি শুধু কবিতাই লিখতেন না, ভালো গানও গাইতেন। । ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরের শ্রীপুরে নানা বাড়িতে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম। ডাক নাম ছিল মন্টু। বরেণ্য এই শিল্পীর পৈত্রিক নিবাস ছিল ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে।


স্কুলে থাকতে বাবার ক্যামেরা দিয়ে ফটোগ্রাফি করতেন মুস্তাফা মনোয়ার। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন সবার ছোট। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মা জমিলা খাতুনকে হারান মুস্তাফা মনোয়ার।


ছেলেবেলা থেকেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর টান তৈরি হয়েছিল মুস্তাফা মনোয়ারের মনে। ১৯৫২ সালে তিনি যখন নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্র, সে সময়েই তিনি প্রদিবাদী কিশোর। ভাষা আন্দোলন নিয়ে এঁকেছিলেন কার্টুন। ফলে পাকিস্তানি সরকারের রোষানলে পড়ে মাসখানেকে জেলে থাকতে হয়েছিল।


ম্যাট্রিক পাস করে মুস্তাফা মনোয়ার চলে যান কলকাতায়, সেখানকার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে তার ভালো লাগেনি। পরে ভর্তি হন কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও