চিকিৎসা কূটনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সমীকরণ

জাগো নিউজ ২৪ সরোজ মেহেদী প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ১৬:০৫

রাজশাহীর পুঠিয়ার আখতারি বানু ২০১৭ সাল থেকে তামিল নাড়ুর ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চারটি অপারেশন হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফলো-আপের তারিখ ছিল। ভিসা পাননি বলে তাঁর পক্ষে আর ভারত যাওয়া হয়ে ওঠেনি।


অস্ত্রোপচারের জায়গায় সংক্রমণ নিয়ে রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে গেলেন। তবুও কাজ হলো না। আখতারি বানু একা নন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শুধু ঢাকা অফিসেই ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশির ভিসা আবেদন নাকচ হয়ে যায়। যাঁদের অনেকেই ছিলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগী। তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়, তার সরাসরি ধাক্কা লেগেছিল চিকিৎসাসেবায়। যার রেশ এখনো কাটেনি। ভারত মেডিক্যাল ভিসা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। কিন্তু সংখ্যা এত কমিয়ে দেয় যে বন্ধ বললেও ভুল হয় না। ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার বাংলাদেশি ভারতে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল ভিসা পেতেন। ২০২৫ সালের শুরুতে সেই সংখ্যা নেমে আসে দিনে ৫০০-এর নিচে।


শুধু একদম জরুরি কেস বা বিশেষ সুপারিশে ভিসা মিলেছে। ক্যানসার রোগী কেমোথেরাপির পর ফলো-আপে যেতে পারছেন না। হায়দ্রাবাদের এআইজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জেসমিনের ফলো-আপ চার মাসেরও বেশি সময় আটকে ছিল শুধু ভিসার জন্য। এভাবে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর খবরও শোনা গেছে।


প্রতি বছর সাড়ে চার লাখ থেকে আট লাখ বাংলাদেশি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার খরচ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের মতে, বাংলাদেশিরা প্রতি বছর বিদেশে চিকিৎসার পেছনে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেন। বাংলাদেশের একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের মোট স্বাস্থ্য বাজেটের চেয়েও বেশি পরিমাণ টাকা বাংলাদেশিরা প্রতিবছর বিদেশে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেন। আর এর অর্ধেকেরও বেশি যেত ভারতে। কারণ পথ সহজ ছিল, খরচ কম ছিল, ভাষার ঝামেলা ছিল না। কলকাতা বা চেন্নাইয়ে বাংলায় কথা বলা যেত। বর্তমানে সেই দরজা প্রায় বন্ধ। আর তা হয়েছে ভারত সরকারের একক সিদ্ধান্তে।


তাহলে রোগীরা এখন কোথায় যাচ্ছেন? যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। কেউ তুরস্কে যাচ্ছেন, যেখানে চিকিৎসার খরচ ভারতের কাছাকাছি। কেউ পাকিস্তানেও যাচ্ছেন, যে দেশটি আগে মেডিক্যাল ট্যুরিজমের মানচিত্রেই ছিল না। আইভিএফ আর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য ইরানও নতুন গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে। মানুষ ভারতে যেতে না পেরে নিজেদের মতো করে বিকল্প খুঁজে নিচ্ছে।


অবশ্য প্রতিবেশী ভারতের তৈরি এই শূন্যতায় যে দেশটি সবচেয়ে বেশি তৎপর হয়েছে, তার নাম চীন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বেইজিং সফরে গিয়ে কুনমিংয়ের হাসপাতালগুলো বাংলাদেশি রোগীদের জন্য খুলে দিতে অনুরোধ করেন। তাতে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয় চীন। এরপর একই বছরের মার্চে প্রথম দল চিকিৎসার জন্য চীন যায়। ১৪ জন রোগী, সঙ্গে চিকিৎসক, ট্যুর অপারেটর ও সাংবাদিক। সেই শুরু। যা এখন একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও