পরিচর্যার ভুলে হয়ত দূর হচ্ছে না ত্বকের কালচে দাগ
মুখের ত্বকের জেদি কালো দাগ বা ‘হাইপারপিগমেন্টেইশন’ দূর হওয়া বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত এই দাগগুলো হালকা হতে অন্তত এক মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
যখন ত্বকে অতিরিক্ত মেলানিন বা পিগমেন্ট তৈরি হয়, তখনই এই কালো, লালচে বা বেগুনি রংয়ের দাগগুলো দৃশ্যমান হয়।
রোদ থেকে সুরক্ষা না নেওয়া, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন কিংবা ব্রণ খোঁটার ফলে ত্বকের ভেতরে যে প্রদাহ তৈরি হয়— তা থেকেই মেলানিনের উৎপাদন বাড়ে।
জীবনধারা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সেলফ ডটকম’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এমন ৬টি ভুলের কথা তুলে ধরেছেন, যা হয়ত অজান্তেই প্রতিদিন করা হচ্ছে।
একসঙ্গে একাধিক ত্বক উজ্জ্বল করার উপাদান ব্যবহার
ত্বকের দাগ দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভিটামিন-সি, রেটিনল বা কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর (গ্লাইকোলিক বা স্যালিসিলিক অ্যাসিড) দারুণ কাজ করে। তবে দ্রুত ফলাফল পাওয়ার আশায় এই সবগুলো কড়া উপাদান একসঙ্গে ত্বকে মাখলে হিতে বিপরীত হয়।
আমেরিকার নিউ অরলিন্সের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মামিনা তুরেগানো বলেন, "একসঙ্গে অনেক শক্তিশালী উপাদান ব্যবহার করলে, ত্বক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও লালচে হয়ে যায়। যা ক্যানসারের মতো ঝুঁকি না বাড়ালেও ত্বকের কালো দাগকে আরও স্থায়ী করে তোলে।"
করণীয়: সব উপাদান একসঙ্গে না মেখে একটি উপাদান বেছে নিয়ে অন্তত দুই সপ্তাহ ব্যবহার করে দেখতে হবে, ত্বক কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। চাইলে ভিটামিন-সি সকালে এবং রেটিনল রাতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্রণের মূল চিকিৎসা আগে না করা
অনেকেরই মুখে ব্রণ থাকা অবস্থাতেই, কেবল ব্রণের পরের কালো দাগ দূর করার পেছনে ছোটেন।
ড. তুরেগানো বলছেন, “এটি বড় ভুল। কারণ যতক্ষণ ত্বকে সক্রিয় ব্রণ থাকবে, অতিরিক্ত তেল আর ব্যাকটেরিয়ার কারণে ত্বকের ভেতরের প্রদাহ চলতেই থাকবে। আর নতুন নতুন মেলানিন তৈরি হতেই থাকবে। ফলে পুরানো দাগ দূর হতে না হতেই নতুন দাগের জন্ম হবে।
করণীয়: আগে ব্রণের মূল চিকিৎসা করতে হবে। এর জন্য রেটিনল, নায়াসিনামাইড কিংবা গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ব্রণ এবং দাগ— দুটির ওপরেই একসঙ্গে কাজ করে।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- ত্বকের দাগ দূর করার উপায়