চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা প্রবল, কিন্তু কৌশল ও পদ্ধতি বিপরীত

বিডি নিউজ ২৪ ড. মঞ্জুরে খোদা প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৩

সবাই ইরানে মার্কিন বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে নিষেধাজ্ঞার কথা বলছে। আর অন্যদিকে চীন নীরবে, সতর্কতার সঙ্গে এই শতাব্দীর নতুন নিয়মকানুন লিখে যাচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এই বাস্তবতাকে আরও প্রকট করেছে। তারা জাতিসংঘ ও বিশ্বের নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাই মাদুরোকে নজিরবিহীনভাবে অপহরণ করে নিজ দেশে নিয়ে গেছে এবং দাবি করছে যে, তারা সরকারকে উৎখাত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং চীনের তেল সরবরাহের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। শুধু তাই নয়, চীনের কোম্পানিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে।


চারদিক থেকে এমন অবরোধের মুখে পড়লে একটি দেশ কি স্বাভাবিক থাকে? নাকি হুমকি দেয়, হম্বিতম্বি করে এবং পাল্টা আঘাত হানে? কিন্তু চীন এর কোনোটিই করেনি। দেশটি নীরব আছে, শান্ত থাকছে; কারণ তাদের কৌশল এতটাই সহজ যে, অনেক দেশ ও অধিকাংশ মানুষ সেটি খেয়ালই করছে না।


যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, আর চীন তাকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলতে চাইছে। এই দুই কৌশলই নির্ধারণ করবে এই শতাব্দীর প্রকৃত নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে এবং সেই প্রতিযোগিতার ফসল ও পুরস্কার কার ঘরে যাবে।


একশ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এক নম্বর শক্তি। কিন্তু চীন এত দ্রুত সেই ব্যবধান কমিয়ে এনেছে যে, উৎপাদন, জ্বালানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক দিক থেকেই তারা এগিয়ে গিয়েছে। বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান বিশ্লেষকের মতে, এই গতিতে চলতে থাকলে ২০৩০-এর দশকে হয়তো চীন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।


আর সেটা হলে চীন শুধু ধনবান ও বিজয়ীই হবে না, তারা অনেক কিছুর নীতি নির্ধারণও করবে। বিশ্ব কোন মুদ্রা ব্যবহার করবে? কোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করবে? কোন নিয়ম মেনে চলবে? চীনের ইচ্ছেতে সেই সব পরিচালিত হবে।


এই সব কিছু ভবিষ্যৎ বিশ্বশক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন–এই দুই শক্তিই তা চায়; কিন্তু অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ও পদ্ধতিতে উভয়ের অবস্থান একেবারে বিপরীত।


প্রথমে দেখা যাক মার্কিন পদ্ধতি কী? তাদের নীতি এককথায় বলা যায়—যারা এগিয়ে যেতে চায়, তাদের গতি কমিয়ে দাও। কারণ যুক্তরাষ্ট্র জানে, চীনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো জ্বালানি। চীন তার ব্যবহৃত তেলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আমদানি করে, আর যুক্তরাষ্ট্র ঠিক সেখানেই তাকে আটকে ফেলতে চায়।


যেসব দেশ চীনের কাছে সস্তায় তেল বিক্রি করে, তাদের দিকে নজর দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ইরান যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে কয়েক যুগ ধরে, রাশিয়া বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে এবং ভেনেজুয়েলার ওপরও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দেশগুলোর ক্ষেত্রে অভিন্ন মিলের দিকটি হলো—তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে চীনের জ্বালানি ও অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। এবং বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি; যুক্তরাষ্ট্র চীনের উত্থানকে এগিয়ে নেওয়া কোম্পানিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। আলিবাবা, বিওয়াইডি, বাইডুর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।


লক্ষ্য একটাই—চীনকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ইঞ্জিনগুলোর গতি কমিয়ে দেওয়া। কিন্তু এই পদ্ধতির একটি অদৃশ্য সমস্যাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি ফ্রন্টে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়, ততই তার মিত্রদের ওপর তার চাপ বাড়ে। উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে তাকালেই সেই দৃশ্য স্পষ্ট হবে, এমনকি তার ইউরোপীয় মিত্রদের দিক থেকেও সে কথা খাটে।


ইরান অল্প মূল্যের ড্রোন ব্যবহার করে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে তাদের নিরাপত্তা জাল ছিন্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিক্রি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে সবসময় সেই হুমকি ঠেকাতে পারেনি। মাত্র ৩৫ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে কখনও কখনও মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপলব্ধি করেছে যে, নিরাপত্তার হিসাব আর আগেকার মতো সরল নেই।


এরপরও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আমাদের দেশে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখুন; কিন্তু তার পরিণতি ও ফলাফলও দৃশ্যমান, যা নগদে সবাই দেখছে। কিন্তু সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও কাতার যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনা করেছে—এমন আলোচনার কথা বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র যখন প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তখন তার মিত্রদের মধ্যেও এক্ষেত্রে সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও