যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে কাদের হারিয়েছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি থেকে শুরু করে দেশটির রাজনৈতিক ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মার্চ মাসে দাবি করেন, তাঁদের হামলায় ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।
তবে তেহরান দ্রুত নেতৃত্বশূন্যতা পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা সর্বোচ্চ চাপ সত্ত্বেও টিকে থাকা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেখিয়েছে।
গতকাল রোববার দিবাগত মধ্যরাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতির চুক্তির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকে রাজি হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তাদের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নিহত শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসা আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতেই তেহরানে এক বিমান হামলায় নিহত হন। হামলার সময় সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজ বাসভবনে বৈঠক করছিলেন তিনি। হামলায় খামেনির পুত্রবধূ, কন্যা এবং নাতি-নাতনিদের অন্তত একজন নিহত হন।
নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজনি
ধর্মীয় নেতা না হলেও দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানি শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন আলী লারিজনি। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর তাঁর মৃত্যুকে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইআরজিসির প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর
মোহাম্মদ পাকপুর একটা সময় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডসের (আইআরজিসি) স্থলবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে তাঁর পূর্বসূরি হোসেইন সালামির মৃত্যুর পর তিনি বাহিনীটির প্রধান কমান্ডার নিযুক্ত হন। যুদ্ধের প্রথম দিনেই পাকপুর নিহত হন। সাবেক স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমাদ ওয়াহিদি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।