ক্যানসার চিকিৎসা : ভয় নয়, প্রয়োজন আস্থা ও ন্যায়ভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা

ঢাকা পোষ্ট রেজা সেলিম প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ১৩:৩৬

উনিশ বছরে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে আমাদের গ্রাম ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার এবং ব্রেস্ট সেন্টারের কাজের অভিজ্ঞতায় আমরা প্রায় ৩০ হাজার নারীকে দেখেছি। এই সংখ্যার পেছনে শুধু রোগীর হিসাব নেই; আছে অগণিত কান্না, আতঙ্ক, অপমান, পরিবার ভাঙার গল্প, চিকিৎসা শুরু করার আগেই হাল ছেড়ে দেওয়ার বেদনা এবং কখনো কখনো অকারণভাবে বিদেশমুখী হওয়ার অসহায়তা।


আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রাথমিক মূল্যায়ন, দ্বিতীয় মতামত বা চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য অনেক রোগী নিকটবর্তী দেশে চলে যান। এর একটি বড় কারণ হলো, নিজ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থার ঘাটতি। অথচ প্রতিটি রোগী যদি শুধু মূল্যায়ন বা দ্বিতীয় মতামতের জন্য গড়ে এক হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করেন, তবে হাজার হাজার রোগীর ক্ষেত্রে তা দেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের সমান।


আমাদের গ্রাম প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক পরীক্ষা, পরামর্শ ও চিকিৎসা-নির্দেশনা দিয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ রোগীর বিদেশযাত্রা এড়ানো সম্ভব হয়েছে; এতে দেশের প্রায় ১৮৩ কোটি টাকার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। প্রশ্ন হলো, কেন মানুষ নিজের দেশের চিকিৎসার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না?


এর উত্তর শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসকের ঘরে নেই। উত্তর আছে আমাদের স্বাস্থ্য-সংস্কৃতি, যোগাযোগের ভাষা, রোগী ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসার ব্যয় এবং সামাজিক মানসিকতার মধ্যে।


আমরা অনেক সময় ক্যানসারকে এমনভাবে উপস্থাপন করি যেন এটি অবধারিত মৃত্যু, ভয়াবহ আর্থিক ধ্বংস এবং পরিবারের ওপর অভিশাপ। ‘ক্যানসার মানেই মৃত্যু’-এই ভয়ভিত্তিক ধারণা শুধু ভুল নয়, অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। ক্যানসার বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু সব ক্যানসার একই নয়; সব পর্যায়ও এক নয়; অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে জীবন বাঁচানো যায়, ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ভয় নয়, দরকার তথ্যভিত্তিক আস্থা।


আরেকটি গভীর সমস্যা হলো নারীর সামাজিক অবস্থান। পল ফার্মার ‘structural violence’ বা কাঠামোগত সহিংসতার কথা বলেছেন, যে সহিংসতা সরাসরি মারধর নয়, কিন্তু সমাজ, অর্থনীতি ও ক্ষমতার কাঠামো মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেয়।


আমাদের দেশে অনেক নারী নিজের শরীরের লক্ষণ বুঝলেও চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে পারেন না পরিবারের অনুমতি ছাড়া। কারণ তিনি অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল, চলাচলে নির্ভরশীল, সিদ্ধান্তে নির্ভরশীল। অনেক নারী ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর স্বামীর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হন, বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় অথবা দৈনন্দিন পারিবারিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। রোগের চেয়ে ভয়াবহ হয়ে ওঠে রোগীকে একা করে দেওয়ার সামাজিক নিষ্ঠুরতা।


এখানে সমাজের বড় দায় আছে। ক্যানসার কোনো পাপ নয়, কোনো লজ্জা নয়, কোনো অভিশাপ নয়। একজন ক্যানসার রোগীকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখা বা তাকে অর্থনৈতিক বোঝা হিসেবে দেখা, এসব শুধু অমানবিক নয়, জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিতেও ক্ষতিকর।


চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও আমাদের বাস্তব সমস্যা আছে। অনেক সময় প্রাথমিক রোগনির্ণয়ের খরচ খুব বেশি নয়; কিন্তু অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, বারবার পরীক্ষা, অগোছালো রেফারেল এবং ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ির কারণে ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়। রোগী যখন চূড়ান্তভাবে চিকিৎসা শুরু করতে চান, তখন পরিবারের আর্থিক শক্তি অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। ফলে চিকিৎসা শুরু হয় দেরিতে বা মাঝপথে থেমে যায়।


সরকার ক্যানসার চিকিৎসায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে, এটা প্রশংসনীয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রয়োজনের তুলনায় অবকাঠামো এখনো অত্যন্ত সীমিত। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক বাংলাদেশে রেডিয়েশন থেরাপির জন্য অন্তত ১৮০টি লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দেশে কার্যকর মেশিনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।


অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ক্যানসার চিকিৎসা সেবা ঢাকাকেন্দ্রিক এবং বিশেষায়িত সেবা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে যথেষ্ট বিস্তৃত হয়নি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও