সূর্যের আগুন আর সবুজের আর্তনাদ
গ্রীষ্মের দুপুর। তীব্র তাপ চারপাশে। আকাশে নেই মেঘ, স্থবির সবকিছু। গুমোট পরিবেশ। লু হাওয়া বইছে যেন।
মাঠের ধান, বাগানের আম, রাস্তার পাশের কৃষ্ণচূড়া, সব যেন একসাথে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। সূর্য যেন আজ বলছে, ‘আমি আজ উত্তপ্ত খুব, দেখি কার থাকে সবুজ রূপ!’
মাঠের ধানগাছ মাথা নত করে উত্তর দিলো, ‘হে সূর্যদেব, এত তাপ দিও না আর, শুকিয়ে যাচ্ছে আমার জীবন, ফেটে যাচ্ছে ধার।’ পাশের আমগাছ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘আমার ছোট ছোট আমগুলো ঝরে পড়ছে ডালে, গরম হাওয়ার দাপটে বাঁচবো কীভাবে কালে?’
এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা শিমুলগাছ বলল, ‘আমি বনজ বৃক্ষ, ছায়া দিই প্রাণে, কিন্তু অতিরিক্ত গরম আমাকেও টানে ক্ষয়ের টানে।’
এমন সময় মাঠে এলেন কৃষক রহিম চাচা। মুখে চিন্তার রেখা, চোখে উদ্বেগ। তিনি বললেন, ‘বছর বছর গরম বাড়ছে, ঋতুর আচরণ বদলাচ্ছে। কখন খরা, কখন ঝড়, কৃষকের জীবন করছে জড়।’
তীব্র গরমে কৃষিজ ফসলের ঝুঁকি, ধানগাছ তখন বলতে শুরু করল, ‘অতিরিক্ত তাপে শুকিয়ে যায় মাটি, পানি না পেয়ে কমে যায় গতি। ফুল ঝরে যায়, দানা হয় না পূর্ণ, ফলন কমে হয় কৃষকের ক্ষতি চূড়ান্ত।’
ভুট্টা বলল, ‘গরমে পরাগায়ন ব্যাহত হয়, দানার সংখ্যা কমে যায় নিশ্চয়।’ সবজি ক্ষেতের বেগুন, মরিচ, টমেটো বলল, ‘ফুল ঝরে যায়, ফল ধরে কম, গরমে আমাদের জীবন হয় ভীষণ দমবন্ধ।’
সংলাপ কাল্পনিক হলেও তীব্র গরমে ফুল, ফসলসহ গোটা কৃষিখাতে ঝুঁকি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অঢেল।
প্রধান ঝুঁকিসমূহ:
মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। ফসলে তাপজনিত চাপ সৃষ্টি হয়। ফুল ও ফল ঝরে পড়ে। পরাগায়ন ব্যাহত হয়। রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়। উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, ফলন কমে।
ফলজ বৃক্ষের আর্তনাদ:
বাগানের আম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা একসাথে বলল, ‘গরম বাতাসে ফল ঝরে যায়, পাতা শুকিয়ে হলুদ হয়। পানি কম পেলে ফলের আকার ছোট, কৃষকের স্বপ্ন তখন হয় ক্ষতবিক্ষত।’
লিচুগাছ বলল, ‘আমার ফলের খোসা ফেটে যায়, বাজারে দামও কমে যায়।’
আমগাছ বলল, ‘অতিরিক্ত তাপে ফলের গুণগত মান কমে, কৃষকের মুখে তখন দুশ্চিন্তা জমে।’
ফলজ গাছের ঝুঁকি:
ফল ঝরে পড়া বেড়ে যায়। পাতায় ঝলসানো দাগ থাকে। ফলের আকার ছোট হয়। ফল ফেটে যাওয়া বাড়ে। রোগবালাই বাড়ে। নতুন ডাল ও কুঁড়ির বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
বনজ বৃক্ষের নীরব কষ্ট:
পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা রেইন ট্রি বলল, ‘মানুষ ভাবে আমি শক্তিশালী, তবুও গরমে আমিও হই দুর্বল ভীষণ খালি।’
শালগাছ বলল, ‘দীর্ঘ খরায় শিকড় পায় না জল, বৃদ্ধি থেমে যায়, কমে জীবনীশক্তির বল।’
বনভূমির পাখিরা বলল, ‘গাছ শুকালে কোথায় হবে বাসা? প্রকৃতি তখন হারায় নিজের ভাষা।’
বনজ বৃক্ষের ঝুঁকি:
চারার মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়। বন আগুনের ঝুঁকি বাড়ে। গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বাড়ে। পাখি ও উপকারী প্রাণীর আবাস ধ্বংস হয়।
তীব্র গরমে কৃষিজ ফসলের ঝুঁকি:
ধানগাছ যেন কৃষকের কাছে তার মনের কথা বলতে শুরু করল, ‘অতিরিক্ত তাপে শুকিয়ে যায় মাটি, পানি না পেয়ে থেমে যায় জীবনের গতি। ফুল ঝরে পড়ে, দানা হয় না পূর্ণ, ফলন কমে কৃষকের ক্ষতি হয় চরম।’
বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তীব্র তাপপ্রবাহ কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়, ফলে ফসলের শিকড় পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না।
- ট্যাগ:
- মতামত
- জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি