নৌযানশুমারি হোক নৌ নিরাপত্তার ভিত্তি

প্রথম আলো সম্পাদকীয় প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, ১৭:০২

দেরিতে হলেও দেশের নৌযানগুলোর ওপর প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ শুমারি কার্যক্রম হাতে নেওয়ায় সরকার অভিনন্দনের দাবিদার। নদীমাতৃক বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ উদ্যোগ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিসংখ্যানচর্চা নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এত দিন যে খাতটি ছিল প্রায় অদৃশ্য, অসংগঠিত ও অনিয়ন্ত্রিত, তাকে প্রথমবারের মতো গণনায় আনার প্রয়াস নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।


প্রথম নৌশুমারির প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশের নদ-নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি অর্থাৎ আড়াই লাখের কাছাকাছি। অথচ নিবন্ধিত নৌযান রয়েছে মাত্র ২০ হাজারের কিছু বেশি। পরিসংখ্যানের এই অমিল কেবল একটি সংখ্যাগত ব্যবধান নয়; এটি যেন রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবহেলার এক নীরব ব্যঙ্গচিত্র—নদীতে বাস্তবতা এক, কাগজে আরেক। যেন নদীপথে চলমান নৌযানগুলোর অধিকাংশই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক দৃষ্টির বাইরে একপ্রকার ‘অদৃশ্য যান’ হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল।


বাংলাদেশে সড়কপথের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, পণ্য পরিবহনের ব্যয়বৃদ্ধি এবং উপকূল, হাওর ও চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর বিচ্ছিন্নতা—এই তিন বাস্তবতার সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে নৌপথের বিকল্প অতি সীমিত। বরং নৌপথই হতে পারে একটি সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থার ভিত্তি। কিন্তু সেই নৌপথ যদি থাকে নিরাপত্তাহীন, অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খল, তবে তাকে আর উন্নয়নের প্রতীক নয়; বরং বিপর্যয়ের পূর্বাভাস বলা যেতে পারে।


এ প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার পর প্রথম নৌশুমারি নিছক একটি তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নয়; এটি হতে পারে নৌ নিরাপত্তার ভিত্তিপ্রস্তর। কারণ, রাষ্ট্র এখন প্রথমবারের মতো অনুধাবন করতে পারছে—বাস্তবিক অর্থে কত নৌযান দেশের নদ-নদীতে চলমান। এ জ্ঞানই নিয়ন্ত্রণের পূর্বশর্ত, আর নিয়ন্ত্রণই নিরাপত্তার প্রারম্ভিক শর্ত।


তবে শঙ্কার বিষয় এই যে যদি এই বিপুল তথ্যভান্ডার কেবল ডেটাবেজের নিস্তব্ধতায় আবদ্ধ থাকে, তবে তার কোনো বাস্তব ফলপ্রসূতা থাকবে না। পরিসংখ্যান তখন কেবল সংখ্যার অলংকার হয়ে থাকবে, জননিরাপত্তার রক্ষাকবচ হয়ে উঠবে না। ফলে প্রতিটি নৌযানকে নিবন্ধন, সার্ভে, ফিটনেস সার্টিফিকেট, চালকের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ, রুট পারমিট এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামের সঙ্গে আবদ্ধ করা অপরিহার্য।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও