তাহলে বিচার কি শুধু ভাইরালদের জন্য?

বিডি নিউজ ২৪ রাজু নূরুল প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ১৬:২২

দোকান থেকে চিপস কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু নিশাত। এটি গত ১৫ এপ্রিলের ঘটনা। ছয় বছরের নিশাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের একটি স্থানীয় স্কুলের নার্সারিতে পড়ত। প্রতিবেশী ইসহাক মিয়ার সঙ্গে বিরোধ ছিল নিশাতের বাবার। সেই বিরোধের প্রতিশোধ নিতেই ইসহাক নিশাতকে হত্যা করে বলে মনে করা হয়েছিল শুরুতে। পরে অবশ্য পুলিশ বলেছে, ইসহাক ধর্ষণ করতে চেয়েছিল ছোট্ট মেয়েটিকে। নিশাত ওর মাকে জানিয়ে দেবে বলে হুমকি দেওয়ার পর ওকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে ইসহাক। নিখোঁজের দুদিন পর, ১৭ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির পাশের একটি খোলা জায়গা থেকে নিশাতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


পল্লবীর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন নিশাতের বাবা আবু সাদিক মিয়া। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন, “দেড় মাস হলো বাচ্চাটা মারা গেছে, আমার ঘুম আসে না। ফেইসবুকে যখন রামিসার ঘটনা দেখলাম, তখন ভাবলাম বাচ্চাটার বাবা-মায়ের সঙ্গে একটু দেখা করে আসি। আমার মেয়েটাকে শ্বাসরোধ করে, হাত-পা ভেঙে, নির্যাতন করে মারা হয়েছে। মামলা করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। আজ প্রায় দেড় মাস হয়ে গেল, এখনো চার্জশিট দেয়নি।” শুধু দৃশ্যটা একবার কল্পনা করুন; ভিন্ন এক জেলা থেকে এক হতভাগ্য শিশুর বাবা ছুটে এসেছেন ঢাকায় রামিসার বাবাকে সান্ত্বনা দেবেন বলে, একে অপরের দুঃখ ভাগ করে নিতে।


২.


এবার আমরা এক বছর তিন মাস আগে ফিরে যাই। এই ঘটনা আমরা সবাই জানি। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে বড় বোন ফাতেমার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকায় আনা হয়। টানা আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঢাকার সিএমএইচে মারা যায় শিশুটি। সেই ঘটনায় সারা দেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আছিয়ার জন্য কেঁদেছিল পুরো দেশ। বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছিল হাজার হাজার মানুষ।


সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করা হবে। কিন্তু বিচারিক আদালতে প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রায় কার্যকর হয়নি। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের আপিল পর্যায়ে আইনের মারপ্যাঁচে ঝুলে আছে।


রামিসাকে হত্যার নিষ্ঠুরতা সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে আছিয়ার ঘটনা। কয়েকটি গণমাধ্যম আছিয়ার পরিবারের খোঁজ নিয়েছে। আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন জানিয়েছেন, “আমার মেয়েকে হত্যার পর অনেকেই এসেছিল, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না। আমরা কেমন আছি, কীভাবে বেঁচে আছি, সেটাও কেউ জানতে চায় না। আসামি জেলে বসে সরকারি খাবার খাচ্ছে, আর আমরা বিচার পাওয়ার আশায় দিন গুনছি।”


তিনি বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করেছেন, এত দিনেও রায় কার্যকর হচ্ছে না কেন? “আমার ভয় হয়, বেশি দেরি হলে হিটু শেখও খালাস পেয়ে যাবে। মেয়েটা মারা গেছে এক বছরের বেশি হলো। বিচারে আসামির ফাঁসি হয়েছে, সেটাও এক বছর হয়ে গেল। এখনো অপেক্ষায় আছি, কবে আমার আছিয়ার খুনির ফাঁসি হবে।”


৩.


এবার আমরা এক মাস পেছনে ফিরে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় যাব। স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসায় পড়া ১১ বছরের এক শিশুর পেট অস্বাভাবিকভাবে স্ফীত হয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি বাবা-মায়ের চোখে পড়ে। জিজ্ঞেস করলে শিশুটি জানায়, তার “পেটে কী যেন নড়ে।” হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। একটি শিশুর পেটে বড় হচ্ছে আরেকটি শিশু।


অপরাধী হিসেবে শিশুটির মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরের নাম আসে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই শিক্ষক মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোড়ন। আত্মগোপনে থেকেও অভিযুক্ত শিক্ষক ভিডিও বার্তা দিচ্ছিল। সেই সূত্র ধরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে জেলে পাঠানো হয়। মাত্র এক মাসের মাথায় আরও অসংখ্য ইস্যুর চাপে পড়ে ভাইরাল হওয়া সেই শিশু হারিয়ে গেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও