হামে শিশুমৃত্যু এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রশ্ন

কালের কণ্ঠ ড. সুলতান মাহমুদ রানা প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০৯:৫৬

হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যু বেড়েই চলেছে। হাম প্রতিরোধে সরকার নানা উদ্যোগের কথা বললেও টিকাদান কর্মসূচির বাইরে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বড় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এই লেখা লিখতে বসা পর্যন্ত হামের জটিলতায় মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। এ কথা বলার অবকাশ রাখে না যে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।


হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে কঠিন এক বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। যে দেশে একসময় টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল, সেই দেশেই আজ হাম ও এর উপসর্গে শত শত শিশুর মৃত্যু ঘটছে।

প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে ছোট ছোট কফিন, হাসপাতালের বারান্দায় মায়ের কোলে জ্বরাক্রান্ত শিশু কিংবা অক্সিজেনের জন্য ছটফট করা শিশুর ছবি গোটা দেশকে প্রকম্পিত করছে। এসব দেখলেই মাথায় ঘুরপাক খায় আমাদের দেশের সক্ষমতার মাত্রা নিয়ে। এমনকি এই ভয়াবহ চিত্র দেশের নীতিগত দুর্বলতা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে আমাদের নাড়া দিচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট তৈরি হয়েছে।

কোথাও বারান্দায়, কোথাও মেঝেতে শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অভিভাবকদের। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা টিকাদান কাঠামো গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হাম-রুবেলা টিকার মজুদ সংকট, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি এবং শিশুদের সময়মতো টিকা না পাওয়ার মতো সমস্যাগুলো। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর মৃত্যু কেবল চিকিৎসার অভাবে হয় না; এটি হয় দারিদ্র্য, অপুষ্টি, অজ্ঞতা, অব্যবস্থাপনা এবং অসমতার সম্মিলিত প্রভাবে। আর বাংলাদেশে সেটিই ঘটেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই সংকট মোকাবেলায় যেভাবে কাজ করেছে, বাংলাদেশ সেটি করতে পারেনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হাম নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তারা এটিকে একটি ‘জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা’ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করেছে।


সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এতে প্রথম ধাপে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ১২ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। পাকিস্তান ২০২৫ সালে একসঙ্গে হাম, রুবেলা ও পোলিও মোকাবেলায় দুই সপ্তাহব্যাপী বিশাল কর্মসূচি চালায়। সেখানে এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী মাঠে নেমে পাঁচ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেন। স্কুল, মসজিদ, গ্রাম ও বাড়ি—সব জায়গায় গিয়ে টিকা নিশ্চিত করা হয়। ভারতের কিছু রাজ্যে ‘স্কুলভিত্তিক ভ্যাকসিনেশন’ বিশেষভাবে কার্যকর হয়েছে। নাগপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল, আশ্রম স্কুল ও আঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ব্যবহার করে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি যারা স্কুলে যায় না, তাদের জন্য আলাদা বিশেষ সেশন চালু করা হয়।


আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশও বড় পরিসরে হাম নিয়ন্ত্রণে সফল উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে সরকার, WHO ও ইউনিসেফ মিলে জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ৮.৯ মিলিয়ন শিশুকে টিকা দিয়েছে। দুর্গম ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায়ও মোবাইল স্বাস্থ্য টিম পাঠানো হয়েছে। রুয়ান্ডা ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো আবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে জোর দিয়েছে। তারা ডিজিটাল টিকাদান রেজিস্ট্রি তৈরি করেছে, যেখানে কোন শিশু টিকা নিয়েছে আর কে বাদ পড়েছে, তা সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়। এতে ‘জিরো ডোজ চাইল্ড’ বা যারা একটিও টিকা পায়নি, তাদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।


অনেক দেশ আবার শুধু টিকা নয়, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন ও পুষ্টিকেও হাম মোকাবেলার অংশ করেছে। কারণ অপুষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে হাম দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।


WHO-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন এ মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো রিয়াল টাইম সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম। উন্নত দেশগুলোতে হাসপাতাল ও ল্যাব থেকে সঙ্গে সঙ্গে তথ্য জাতীয় ডেটা বেইসে চলে যায়। ফলে কোথায় সংক্রমণ বাড়ছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে টিকাদান ও আইসোলেশন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও