ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল

যুগান্তর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০৯:৫১

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দুটি প্রধান আনন্দ উৎসব হচ্ছে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। এক মাস কঠিন সিয়াম সাধনার পর রোজা ভাঙার আনন্দই হচ্ছে ঈদুল ফিতর। আর আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্য প্রদর্শনের চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা হচ্ছে ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে আল্লাহর নামে পশু কুরবানি করা। কুরবানিকৃত পশুর রক্ত বা গোশত কোনোটিই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। আল্লাহ শুধু তার বান্দার আনুগত্যের প্রমাণ চান কুরবানির মাধ্যমে। সংসারের ব্যয়ভার নির্বাহ করার মতো অর্থসম্পদ রেখে কুরবানির দিন যদি সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ অথবা ৫২ ভরি রৌপ্য অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ সঞ্চিত আছে, এমন মুসলমানের ওপর সাধ্যমতো পশু কুরবানি করা ওয়াজিব। কুরবানির মাধ্যমে প্রাপ্ত পশুর মাংসের এক ভাগ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিলি করতে হয়। এক ভাগ কুরবানিদাতা নিজের পরিবারের সদস্যদের খাবারের জন্য রাখতে পারেন এবং অবশিষ্ট এক ভাগ আত্মীয়স্বজনদের মাঝে বিলি করবেন-এটাই ইসলামসম্মত রীতি। বিত্তবানের সম্পত্তিতে দরিদ্র মানুষের ‘হক’ আছে। কুরবানির মাধ্যমে কিছুটা হলেও সেই হক আদায় করা সম্ভব কিন্তু বর্তমানে কুরবানি যেন লোকদেখানো একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কে কত বড় পশু কুরবানি দিতে পারেন, তার একটি প্রতিযোগিতা চলে। কুরবানির পশুর গোশত দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা কোনোমতেই কাম্য নয়। দরিদ্র মানুষের কাছে কুরবানির গোশত বিতরণের সময় মনে রাখতে হবে, এটা দরিদ্র মানুষের প্রতি করুণা নয়, তাদের হক আদায় করা মাত্র।


আমাদের দেশে যারা প্রতিবছর ঈদুল আজহার সময় পশু কুরবানি দেন, তাদের অনেকেরই কুরবানি শুদ্ধ হয় না। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। হারামভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কুরবানি করা হলে সেটাও আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে কুরবানি করা হলে তা-ও আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না।


আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ঈদুল আজহার প্রসঙ্গ এলেই নানা স্মৃতি মনে পড়ে। বিশেষ করে ছোটবেলার সেই রঙিন দিনগুলো স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে। ছোটবেলার ঈদ কতই না আনন্দের ছিল। পরিবারের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অধীর আগ্রহের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। উভয় ঈদে পরিবারের বাচ্চাদের জন্য নতুন পোশাক ক্রয় করা হয়। ঈদের আগে মুরব্বিরা নতুন জামা-কাপড় কিনে আনতেন। আমরা সেসব জামা-কাপড় লুকিয়ে রাখতাম, যাতে অন্যরা দেখে না ফেলে। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ঈদের নামাজ আদায় করার স্মৃতি এখনো মনে দোলা দেয়। ঈদুল আজহার দিন খুব সকালে ঘুম থেকে আমাদের জাগিয়ে দেওয়া হতো। তারপর গোসল করে নতুন জামা-কাপড় পরিধান করে আমরা মুরব্বিদের সঙ্গে ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে যেতাম। ঈদুল ফিতরের চেয়ে ঈদুল আজহার দিন ঈদের জামাত কিছুটা আগে শুরু হতো। কারণ নামাজের পরপরই পশু কুরবানি দিতে হতো। আমাদের বাড়িতে সাধারণত ঈদের ২-৩ দিন আগে পশু ক্রয় করা হতো। আমরা ছোটরা দলবেঁধে কুরবানির পশুকে খাবার দিতাম। আমাদের বাড়িতে সাধারণত একটি গরু এবং একটি ছাগল কুরবানির জন্য ক্রয় করা হতো। পশুটিকে কুরবানি করার সময় খুব কষ্ট হতো। মনে হতো পশুটিকে যদি কুরবানি করা না হতো, তাহলে কতই না ভালো হতো। ঈদের দিন পুরোটা সময় আনন্দ করতাম। বিকালে এলাকায় ফুটবল খেলা হতো। শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল থাকার কারণে আমি ফুটবল খেলায় অংশ নিতাম না। আমি ছিলাম শুধুই দর্শক। ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম। পরবর্তী সময়ে যখন বড় হই, তখনো ঈদ উদযাপন করি; কিন্তু ছোটবেলার সেই ঈদ আনন্দ আর খুঁজে পাই না।


ইসলামের প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আমাদের পরস্পর শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। কিন্তু আমরা সেই শিক্ষা ক’জন গ্রহণ করছি? আমরা যদি ঈদের মর্মকথা উপলব্ধি এবং বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করতে পারতাম, তাহলে দেশে এত হানাহানি থাকত না। কেউ উন্নয়নের সুফলপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতো না। কিন্তু আমরা ধর্মীয় আনন্দ অনুষ্ঠান উদযাপন করি ঠিকই; তবে তার মর্মকথা উপলব্ধি করতে চাই না। আর করলেও তা বাস্তবে প্রয়োগ করি না।


পরিবারের বড়রা যে কোনো উৎসব আয়োজনের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন। আর ছোটরা নির্মল আনন্দ উপভোগ করে। বাবা হচ্ছেন একটি পরিবারের বটবৃক্ষের মতো। তিনি অকাতরে সবার জন্য ছায়া দিয়ে যান। বাবার অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। সন্তান যতদিন বাবা না হয়, ততদিন সে বাবার গুরুত্ব বুঝতে পারে না। আগে বুঝিনি-এখন বুঝতে পারি, বাবা ঈদের সময় আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য কত কিছুই না করতেন। আমরা ছোটবেলায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করতাম; কিন্তু বুঝতে পারতাম না এ আনন্দ আয়োজনের জন্য পরিবার-প্রধানকে কতটা পরিশ্রম এবং অর্থ ব্যয় করতে হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও