ডাচদের টোটাল ফুটবল এবং জার্মান-যন্ত্রের জয়
১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওর সেই ধূসর বিকেলে বিশ্বকাপ নামে যে মহাযাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজ শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এই যাত্রার কোথাও পেলে-গারিঞ্চার সাম্বার ছন্দ, কোথাও ম্যারাডোনার ঈশ্বরপ্রদত্ত জাদুকরি ছোঁয়া, আবার কোথাও জিনেদিন জিদান কিংবা লিওনেল মেসির অমরত্বের পথে হেঁটে যাওয়া—সব মিলিয়েই তো এই ফুটবল-পুরাণ। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে সেই সব রোমাঞ্চকর স্মৃতি ফেরানোর আয়োজন—ফিরে দেখা বিশ্বকাপ।
১৯৭০ সালে পেলের ব্রাজিলের তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পর জুলে রিমে ট্রফিটা স্থায়ীভাবে চলে যায় তাদের শোকেসে। ফিফা তাই এক নতুন ট্রফির নকশা প্রতিযোগিতার ডাক দেয়। ৫৩টি নকশার মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হলো ইতালিয়ান ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগার তৈরি এক মাস্টারপিস—আজও আমরা যে বিশ্বকাপ ট্রফিটি দেখি। ১৮ ক্যারেটের খাঁটি সোনা আর সবুজ ম্যালাকাইট পাথরের বেজমেন্টে গড়া পাঁচ কেজি ওজনের ৩৬ সেন্টিমিটারের এই ট্রফি তৈরি করতে ফিফার খরচ হয়েছিল ২০ হাজার ডলার। তবে জুলে রিমের মতো একে আর কেউ স্থায়ীভাবে নিজের করে নিতে পারবে না। চ্যাম্পিয়ন দেশ পায় কেবল একটি রেপ্লিকা। সেই নতুন ট্রফি উঁচিয়ে ধরার নতুন লড়াইয়ে সেবার বিশ্বকে মোহিত করেছিল ডাচদের এক মায়াবী ফুটবল-দর্শন, যার নাম ‘টোটাল ফুটবল’।
আবার নতুন নিয়ম
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভক্ত জার্মানির পশ্চিমাংশ, অর্থাৎ পশ্চিম জার্মানি সেবার আয়োজন করেছিল দশম বিশ্বকাপের। এই টুর্নামেন্টে ফিফা এক জটিল ফরম্যাট নিয়ে আসে। ১৬টি দলকে ৪টি গ্রুপে ভাগ করে শুরু হয় প্রথম রাউন্ড। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল কোয়ালিফাই করে দ্বিতীয় রাউন্ডে। সেখানে আবার চার দলের দুটি গ্রুপ বানিয়ে চলে সেমিফাইনাল পর্ব। এই পর্বের ‘অল এগেইনস্ট অল’ লড়াই শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল যায় ফাইনালে, আর দ্বিতীয় হওয়া দল দুটি খেলে তৃতীয় স্থানের জন্য।