পণ্যের অগ্নিমূল্যে পুড়ছে মধ্যবিত্তের সংসার
বেতন ৪২ হাজার টাকা। পাঁচজনের সংসার। মাস শেষে হাতে থাকে সাড়ে চার হাজার টাকা। সেই টাকায় চলে না ছেলের লেখাপড়া ও পরিবারের চিকিৎসার খরচ। ফলে মাসের পর মাস বাড়ছে ঋণের বোঝা। কেরানীগঞ্জের মাসুমের এই গল্প এখন দেশের লাখো পরিবারের। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে চরম বিপাকে পড়েছে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। চাল, ডাল, তেল, ডিম, সবজি থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস-সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, এক মাসের ব্যবধানে এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় হু-হু করে বাড়ায় মাসের শুরুতেই হিসাব মেলাতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন ভোক্তারা। বাধ্য হয়ে অনেকেই খাবারের তালিকা ছোট করছেন, ভেঙে খাচ্ছেন জমানো সঞ্চয়। বাজার তদারকিতে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অসাধু চক্রের পকেট কাটার মহোৎসবে নীরবে পুড়ছে মধ্যবিত্তের সংসার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৫-৬ টাকা বাড়ায় এক কেজি সরু চাল কিনতে ক্রেতার সর্বোচ্চ ৯০ টাকা খরচ হচ্ছে। ডালের দাম ঠেকেছে ১৬০ টাকা কেজিতে। ৮০ টাকা কেজির নিচে মিলছে না কোনো সবজি। ডিমের ডজনও ১৫৫ টাকা। সঙ্গে আটা-ময়দা থেকে শিশুখাদ্য সবকিছুর দাম বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
মূল্যবৃদ্ধির কারণে মাছ-মাংস কেনা এক প্রকার বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। গরুর মাংসের স্বাদ নিতে হলে কেজিপ্রতি ৮০০-৮২০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। গরিবের তেলাপিয়া ও পাঙাশের কেজিও ২০০-২৫০ টাকার ওপরে। আর অন্যান্য মাছ কিনতে ৪৫০-৯০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। পাশাপাশি রাজধানীর খুচরা বাজারে তিন মাসের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম সর্বোচ্চ ১৬৭ শতাংশ বেড়েছে। রান্নায় ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। ফলে যার আয় বাড়ানোর ক্ষমতা নেই, ব্যয় বাড়ায় তারা সবচেয়ে বিপদে পড়েছে।