স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা কেন জরুরি

প্রথম আলো বদিউল আলম মজুমদার প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ১৪:২৯

সম্প্রতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করছেন যে চলতি বছরের শেষের দিকে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। আমরা তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। তবে স্মরণ করে দিতে চাই যে বছরের শেষে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনগুলো শুরু ও সম্পন্ন করা জরুরি।


দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া জরুরি। কারণ, নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।’ অর্থাৎ নির্বাচিত জেলা পরিষদ জেলায়, নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ উপজেলায়, নির্বাচিত ইউনিয়ন ইউনিয়নে এবং একইভাবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায়ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসনকার্য পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক।


লক্ষণীয় যে সংবিধানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর ‘স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান’ করার কথা বলা হয়েছে; অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক স্তরে সবকিছুর দেখভাল করবেন, যেমনিভাবে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সরকার কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শাসনকার্য পরিচালনা করেন।


অন্যভাবে বলতে গেলে, ছোটখাটো কিছু অবকাঠামো নির্মাণ, টিআর-কাবিখার মতো সরকারি স্কিমের উপকারভোগী নির্ধারণ এবং ছোটখাটো বিচার-সালিস পরিচালনার মধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকার পরিবর্তে তাদেরই স্থানীয় পর্যায়ে শাসনকার্য পরিচালনা করার কথা। তারা যাতে এ ভূমিকা সফলভাবে পরিচালনা করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের সংবিধানে ‘প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের কার্য’ তাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় পর্যায়ের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন, যেমনিভাবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাজ করেন।


বস্তুত, আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয় ‘বেঙ্গল লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮৫’–এর অধীনে; অর্থাৎ আমাদের স্বশাসিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থা থাকার কথা, নিয়ন্ত্রিত নয়। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো—কেন্দ্রে প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত সরকারের অধীনে কাজ করলেও, অন্য সব প্রশাসনিক স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরই কর্মকর্তাদের অধস্তন করে ফেলা হয়েছে।


এটি সুস্পষ্ট যে বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় আমাদের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারব্যবস্থা হওয়ার কথা। অন্যভাবে বলতে গেলে, স্থানীয় সরকার একটি সমান্তরাল সরকারব্যবস্থা, যার দায়িত্ব স্থানীয় পর্যায়ে, তথা সব প্রশাসনিক স্তরে শাসনকার্য পরিচালনা করা।


তবে আমাদের সংবিধান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি দায়িত্ব দিয়েছে, যেগুলো হলো জনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, পাবলিক সার্ভিস তথা জনকল্যাণমূলক সব সরকারি সেবা প্রদানের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। একই সঙ্গে সব উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। জনকল্যাণ অর্জনের জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং স্থানীয় সরকারের আইন প্রণয়নকালে সংসদ এগুলো কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না [কুদরত-ই-এলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ, ৪৪ ডিএলআর (এডি)]

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও