ডুবে যাওয়া ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারে গ্রিসকে অনুসরণ করতে পারে বাংলাদেশ
২০০৮ সাল-পরবর্তী সময়ে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছিল গ্রিস। দেশটির সেই বিপর্যয়কে বিশ্বের গত অর্ধশতকের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পুরো ইউরোজোনকে নাড়িয়ে দেয়া এ সংকটে গ্রিসের প্রায় সব ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল। গ্রিসজুড়ে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেয়ার হিড়িক পড়েছিল। গ্রাহকের অর্থ উত্তোলনের চাপ সামাল দিতে না পেরে দেশটির বেশির ভাগ এটিএম বুথ বন্ধ করে দেয়া হয়। এক সময় খেলাপি ঋণ পৌঁছায় ৪৯ শতাংশে। বিপর্যস্ত গ্রিসের সেই ব্যাংক খাত আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দেশটির ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশে। আর শক্তিশালী ব্যাংকের ওপর ভর করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে গ্রিসের অর্থনীতিও।\
ব্যাংক খাতে গ্রিস গত এক দশকে আমূল সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। সংকট শুরুর সময় ২০০৮ সালে দেশটিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৬৪। অর্থনীতিকে টেনে তোলা ও সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যাংকের সংখ্যা এখন মাত্র চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। বৃহৎ এ ব্যাংকগুলোকে মূলধন জোগান দেয়া হয়। অন্য ব্যাংকগুলো হয় বন্ধ করে দেয়া হয়, নয়তো পুনর্মূলধনীকরণের পর বড় চার ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সংস্কার কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোকে মূলধন জোগান দেয়া হয় প্রায় ৫০ বিলিয়ন ইউরো; বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ইউরো ১৪৫ টাকা হিসাবে)। গ্রিস সরকার ও ইউরোপীয় তহবিল থেকে এ অর্থের জোগান দেয়া হয়।