অকটেনে ‘ভাসছে’ বিপিসি, তবু পাম্পে হাহাকার
জ্বালানি তেল পেতে আগের দিন রাত থেকেই পাম্পগুলোতে দিতে হচ্ছে লাইন। মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকারে অকটেনের চাহিদা বেশি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে এই মুহূর্তে তাদের মজুত সক্ষমতার চেয়ে বেশি অকটেন রয়েছে, যা দিয়ে ৪৫ দিন চলবে। এছাড়া বেসরকারি প্ল্যান্টগুলো থেকে প্রতিদিন আসে আরও প্রায় ৭০০ টন। এতে দৈনিক গড়ে ১৪শ টন সরবরাহ দিলে সবমিলিয়ে ৭৮ দিন চলা সম্ভব। অথচ ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেনের জন্য হাহাকার।
সোমবার (২০ এপ্রিল) আগের চেয়ে ২০ শতাংশ অকটেন বেশি সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে বিপিসি। যদিও এর ইতিবাচক প্রভাব এখনো মাঠ পর্যায়ে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ব্যয়ের চাপ সামলাতে গত ১৮ এপ্রিল ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।
দেশে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি আমদানি পরিশোধন নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসি। জোগান কমে যাওয়ায় সংকটের প্রথম দিক থেকে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। স্থানীয় উৎসের পাশাপাশি এখন আমদানি বেশি হওয়ায় সেই অকটেন ব্যবস্থাপনায় ঘাম ঝরছে তাদের। অতিরিক্ত ট্যাংক প্রস্তুত করে তাতে রাখতে হচ্ছে অকটেন।
বিপিসির চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি ফ্রাকশনেশনের প্ল্যান্ট সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তাদের উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন নির্ধারিত সময়ে বিপিসি গ্রহণ করছে না। এমন খবরে গত দুদিন সমালোচনা উঠলেও বিষয়টি ‘সাবোটাজ’ বলছে বিপিসি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি এমন আরও তিনটি বেসরকারি প্ল্যান্ট থেকে নিয়মিত পরিশোধিত তেল কেনে।