বন্দরে পণ্যজট ও অর্থদণ্ডের শঙ্কা
দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে নতুন করে জটিলতার মেঘ জমতে শুরু করেছে। আমদানি করা পণ্য চালানে ঘোষণার চেয়ে সামান্য অমিল পেলেই এখন থেকে বিল অব লেডিং (বিএল) ও বিল অব এন্ট্রি সংশোধন বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই নতুন আদেশের ফলে একদিকে যেমন পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনারজট ও আমদানিকারকদের ওপর বিপুল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার খড়্গ নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এত দিন নিয়ম ছিল কায়িক পরীক্ষায় যদি কোনো চালানে ঘোষণার চেয়ে সামান্য বেশি ওজন বা বাড়তি প্যাকেজ পাওয়া যেত, তবে বিল অব এন্ট্রি ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ করে শুল্ক পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা যেত। এতে সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচত। কিন্তু এনবিআরের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কায়িক পরীক্ষায় ওজন বা প্যাকেজে কোনো অমিল থাকলে বিএল অপরিবর্তিত রেখে সমন্বয় করাকে ‘অনিয়ম’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এখন থেকে আগে বিএল সংশোধন করতে হবে, এরপর শুরু হবে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া।
এই আদেশকে ‘বাণিজ্য সহজীকরণ’ নীতির পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকরা। চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বলেন, ‘আমরা চার দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু নতুন এই নিয়ম আমাদের সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বিএল সংশোধন করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। যতক্ষণ সংশোধন না হবে, ততক্ষণ পণ্য ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব হবে না।
- ট্যাগ:
- ব্যবসা ও অর্থনীতি
- অর্থদণ্ড
- পণ্য আমদানি