বিতর্কিত ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করুন

প্রথম আলো সম্পাদকীয় প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০

বাংলাদেশের শ্রম খাত দীর্ঘদিন ধরেই ভারসাম্যহীন এক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। এখানে একদিকে রয়েছে উৎপাদনমুখী অর্থনীতির চাপ, অন্যদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম (সংশোধন) বিল সেই ভারসাম্য রক্ষার পরিবর্তে বরং একতরফা প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা কমানো এবং শ্রমিকের সংজ্ঞা সংকুচিত করার মতো সিদ্ধান্তগুলো এই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে—এ আইন সংশোধন আসলে কাদের স্বার্থ রক্ষা করছে?


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পাঁচটি ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এটি ছিল শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু নতুন বিলে সেটিকে আবার কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা কার্যত পুরোনো অবস্থাতেই ফিরে যাওয়া। শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার পরিসর সীমিত করা মানে তাঁদের দর–কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল করা। সরকার যদি সত্যিই শ্রমিকবান্ধব হতে চাইত, তাহলে এই সুযোগ সংকুচিত না করে বরং কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দিকে নজর দিত।


একইভাবে শ্রমিকের সংজ্ঞা থেকেও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি বড় অংশের কর্মজীবী মানুষকে শ্রম আইনের সুরক্ষা থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আধুনিক কর্মপরিবেশে ‘শ্রমিক’ ও ‘কর্মচারী’—এই বিভাজন ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে এ ধরনের সংকীর্ণ সংজ্ঞা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি শ্রম অধিকারের পরিসরকে সীমিত করে।


আরও উদ্বেগজনক হলো ভবিষ্য তহবিলের বিধানে আনা পরিবর্তন। আগে যেখানে ১০০ বা তার বেশি শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল বাধ্যতামূলক ছিল, সেখানে এখন দুই–তৃতীয়াংশ কর্মী জাতীয় পেনশন স্কিমে যুক্ত হতে চাইলে মালিকপক্ষকে ভবিষ্য তহবিল গঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় শ্রমিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এ ধরনের সম্মতি আদায় করা কঠিন নয়। ফলে এটি শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।


সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠছে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিয়ে। শ্রম আইন সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই সংশোধনগুলোর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। শ্রমিকনেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিসিসিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে যে খসড়া চূড়ান্ত হয়েছিল, তা রাতারাতি পরিবর্তন করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও