বর্ষবরণ উৎসব নিয়ে কেন এত টানাটানি

জাগো নিউজ ২৪ মোস্তফা হোসেইন প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন মঙ্গল শোভাযাত্রা। পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরুতেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।আবার এই শোভাযাত্রাকে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগেও অভিযুক্ত হতে হয়,তখন থেকেই। না, সেটা শুধু নামের কারণেই নয়,ওই সমালোচকরা এতে জীবজন্তুর ছবি, সরায় শিল্পকর্মকে স্পষ্টতই মুসলিম বিদ্বেষী সংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করে।কিন্তু জনপ্রিয়তার তোড়ে তাদের দাবি চাপা পড়ে যায়।


কিন্তু যখন মঙ্গল শোভাযাত্রার সুনাম ও স্বীকৃতি বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বসংস্কৃতির অংশ হিসেবে গণ্য হয় তখন শোভাযাত্রাকে ঢালাওভাবে ধর্মবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করা কমিয়ে দেওয়া হয়।কিন্তু পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনকে তারা বিদায়াত হিসেবে বলতেই থাকে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিরোধীরা আবা্রও তাদের ভাবনার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টায় নেমে পড়ে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা সরওয়ার ফারুকী নিজে একজন সংস্কৃত কর্মী হওয়ার কারণে অনেকেরই ধারণা ছিল, হয়তো মঙ্গল শোভাযাত্রা সনামেই চালু থাকবে। কিন্তু নিজের পরিচিতিকে তিনি পাশ কাটয়ে গেলেন মূলত আত্মরক্ষার প্রয়োজনে। মুস্তফা সারওয়ার ফারুকী মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিভাজনের প্রতীক আখ্যায়িত করে নাম রাখলেন `বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ । ওই সময় ব্যাপক সমালোচনা হলো এ নিয়ে। মঙ্গল বিরোধীরা নাম পরিবর্তনে সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিদায়াত কুফুরি ফতোয়া বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হয়। ওয়াজ মাহফিলে কিংবা ধর্মীয় আলোচনায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে শিরক হিসেবে তারা আখ্যায়িত করতে থাকেন।


অথচ এই মঙ্গল শোভাযাত্রা ২০১৬ সালে ইউনেস্কো মাধ্যমে বিশ্বসংস্কৃতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। ইউনূস সরকার আমলে একবার এবং বিএনপি সরকার আমলে আবার নাম পরিবর্তন হওয়ার পরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়ে গেছে সেই ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হিসেবেই। এখন সরকার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউনেস্কোর কাছে যদি আবেদন করে যে, মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করা হোক।  সেক্ষেত্রে ইউনেস্কো যদি বলে যে, মঙ্গল শোভাযাত্রাকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তখন কী বাংলাদেশের একটি অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাতিল হয়ে যাবে? যদি তারা আবেদন গ্রহণও করে তারপরও বাংলাদেশের সুনাম কি অক্ষুণ্ন থাকবে?


প্রশ্ন হচ্ছে, একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি যার পেছনে একটি উদ্দেশ্য থাকে,যা মানুষের মন-মানসিকতাকে প্রতিফলন ঘটায়।সেখানে এর ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ কেন? সংস্কৃতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে এটাইতো কাঙ্ক্ষিত।চারুকলায় যখন এই মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় তখন কি সরকার নাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল? নাকি আয়োজকদের কর্মসূচি নির্ধারণ করে দিয়েছিল? এটি কীভাবে হবে,নাম কি হবে, কারা যুক্ত থাকবে কখন কোথায় হবে সবই তো চারুকলার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিকল্পনাতেই হয়েছিল। এখন কেন বারবার নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে।


নাম পরিবর্তনের পরিবেশ দাবি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে,যারা মঙ্গলে অমঙ্গল দেখেন তারা কিন্তু মঙ্গল শোভাযাত্রা কিংবা আনন্দ শোভাযাত্রায় মুসলিম বিদ্বেষকেও খুঁজে পান। স্পষ্টত বক্তব্য তাদের-এগুলো হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি। বাস্তবতা হচ্ছে সংস্কৃতি জাতির চেতানাপ্রসুত বিষয়। যেমন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশে বিয়ের সময় নারীরা উলুধ্বনি দেয়।  আরব মুসলমান নারীরা উলুধ্বনি দেয় সেই সুবাদের বাঙালি মুসলমান নারীদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়। এটা ওদের সংস্কৃতি মুসলমান হওয়ার পরও বাংলাদেশে সর্বজনীন উৎসব এটা নয়।


মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরানে ঘটা করে নওরোজ পালনের ইতিহাস দীর্ঘ। অগ্নিউপাসকরা প্রাচীনকালে অগ্নিপূজা করতো। সেই আদলে অগ্নিকুণ্ডের উপর দিয়ে লাফানোর মতো বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয় এখনও। নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা,কবিতা আবৃত্তি,বিভিন্ন খেলাধুলার প্রচলন আছে বর্ষবরণের উৎসবে। নওরোজ উদ্‌যাপনের উদাহরণ কুর্দিদেরও মধ্যেও আছে। অথচ এর উৎস ইসলাম প্রতিষ্ঠারও বহু আগে থেকে। অগ্নিউপাসকদের রীতি-রেওয়াজ বলে সেখানে এটা নিষিদ্ধ হয়নি। নওরোজ উৎসবেও ঘাটতি পড়েনি কিংবা জায়েজ না জায়েজ এমন বাহাসও তৈরি হয়নি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও