ডিগ্রি নয়, মননে শিক্ষা: নারীর স্বাধীনতা ও আমাদের সামাজিক দ্বিচারিতা

জাগো নিউজ ২৪ মাহফুজা অনন্যা প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০১

শহরের ভেতর আরেকটা শহর থাকে—খোলা চোখে দেখা না গেলেও তা বাস্তবের চেয়েও কঠিন। সেই শহরে ভোর মানেই যুদ্ধের শুরু। যেসব নারী মানুষের বাসায় “ছুটা বুয়া” হিসেবে কাজ করেন, তাদের দিন শুরু হয় সূর্য ওঠার আগেই। এক হাতে নিজের সংসার, অন্য হাতে পাঁচ-ছয়টা বাড়ির কাজ—তবুও তাদের চোখে থাকে বেঁচে থাকার এক অদম্য ইচ্ছা। তাদের স্বামীরা জানে—এই শ্রমই তাদের পরিবারের ভাত জোগায়, সন্তানের বই কেনে, অসুখে ওষুধ আনে। তাই তারা লজ্জা পায় না, বরং পাশে দাঁড়ায়। কেউ রিকশা চালায়, কেউ দিনমজুর, কেউ ছোটোখাটো দোকান করে—যে যা পারে, তা নিয়েই লড়াই করে। এই মানুষগুলো হয়তো উচ্চশিক্ষিত নয়, কিন্তু তাদের মন উদার, বাস্তববোধে পরিপূর্ণ, এবং দায়িত্ববোধে দৃঢ়।


অন্যদিকে, সমাজের আরেক প্রান্তে কিছু তথাকথিত “উচ্চশিক্ষিত” মানুষের চেহারা ভয়ঙ্কর রকমের বৈপরীত্যে ভরা। তাদের হাতে ডিগ্রি আছে, কিন্তু চিন্তায় অন্ধকার। তারা স্ত্রীকে ঘরের বাইরে যেতে দেয় না—স্বাধীনতা তো দূরের কথা, নিজের পরিচয় গড়ার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়। অথচ সংসারে অভাব লেগেই আছে। সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে পারে না, নিজের দায়িত্ব নিতে পারে না—কিন্তু স্ত্রীকে দোষ দিতে কখনো ভোলে না। মারধর করে, অপমান করে, শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেয়।


সবচেয়ে নির্মম হলো—যখন সেই নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, চাকরি করতে চায়, তখন তাকে “চরিত্রহীন”, “পতিতা” বলে অপবাদ দেওয়া হয়। যেন নারীর স্বাধীনতা মানেই তার অবমাননা! যেন ঘরের বাইরে পা রাখা মানেই পাপ! এই মানসিকতা শুধু নারীর বিরুদ্ধে নয়—এটা মানবতার বিরুদ্ধেও এক নির্মম অপরাধ।


এখানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এক কঠিন সত্য—শিক্ষা শুধু সনদে নয়, মননে। কম শিক্ষিত সেই মানুষটি, যে তার স্ত্রীর পরিশ্রমকে সম্মান করে, তার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে—সে আসলে অনেক বড় শিক্ষিত। আর যে মানুষটি উচ্চশিক্ষার অহংকার নিয়ে স্ত্রীর অধিকার কেড়ে নেয়, তাকে অপমান করে, তার সম্ভাবনাকে হত্যা করে—সে প্রকৃত অর্থেই অশিক্ষিত, বর্বর।


একজন নারীকে ঘরের চার দেয়ালে আটকে রেখে কখনোই একটি সুস্থ সমাজ গড়া যায় না। তাকে পঙ্গু বানিয়ে রাখার মানে হলো একটি প্রজন্মকে দুর্বল করে দেওয়া। কারণ একজন নারী শুধু একজন মানুষ নয়—তিনি একজন মা, একজন শিক্ষক, একজন নির্মাতা। তার স্বাধীনতা মানেই একটি পরিবারের, একটি সমাজের, এমনকি একটি দেশের এগিয়ে যাওয়া।


তাই “প্রকৃত শিক্ষিত” হওয়া শুধু ডিগ্রি, সার্টিফিকেট বা বই মুখস্থ করার বিষয় নয়—এটা মূলত মানুষের ভেতরের রূপান্তরের প্রশ্ন।


প্রকৃত শিক্ষিত তারা—যারা জ্ঞানকে আচরণে রূপ দিতে পারে। যারা জানে, কিন্তু তার থেকেও বেশি বোঝে—কখন, কোথায়, কীভাবে সেই জ্ঞান ব্যবহার করতে হয়। প্রকৃত শিক্ষিত তারা—যাদের মধ্যে মানবিকতা আছে। অন্যের কষ্ট বুঝতে পারে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, এবং ক্ষমতা থাকলেও অহংকারে ভোগে না।প্রকৃত শিক্ষিত তারা—যারা প্রশ্ন করতে জানে, অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না। নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে সংশোধন করে। প্রকৃত শিক্ষিত তারা—যারা নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব—এই বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে। প্রকৃত শিক্ষিত তারা—যারা শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য ভাবতে পারে। তাদের জ্ঞান অন্যদের জীবন আলোকিত করে, অন্ধকার বাড়ায় না। সবশেষে বলা যায়—প্রকৃত শিক্ষা মানুষের ভেতর “মানুষ” তৈরি করে। যেখানে ডিগ্রি শেষ হয়, সেখান থেকেই আসলে শিক্ষার শুরু।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও