পারকিনসনস রোগীর পুনর্বাসনে করণীয়
মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু স্নায়বিক রোগ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম পারকিনসনস। অনেকেই এটিকে শুধু হাত কাঁপার রোগ বলে মনে করেন; কিন্তু বাস্তবে এটি দৈনন্দিন জীবনযাপনে প্রভাব ফেলে। তবে আশার কথা, সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে পারকিনসনস রোগী অনেকটাই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন।
পারকিনসনস রোগের লক্ষণ
পারকিনসনস রোগে মস্তিষ্কের ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চলাফেরা ধীর হয়ে যায়, হাত কাঁপা ও শরীর শক্ত হয়ে যেতে পারে।
শরীরের ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হয়। হাঁটার সময় ছোট ছোট পা ফেলা বা ঝুঁকে হাঁটতে হয়। হাত বা আঙুলে কাঁপুনি হয় (বিশেষ করে বিশ্রামের সময়)।
কথা আস্তে বলার মতো লক্ষণ থাকে। মুখে অভিব্যক্তি কমে যায়। ঘুমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বিষণ্নতার মতো সমস্যা হয়। পারকিনসনস রোগের লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে বাড়তে পারে।
পুনর্বাসন বা ফিজিয়াট্রিক ব্যবস্থাপনা
পারকিনসনস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য না হলেও পুনর্বাসন চিকিৎসা বা রিহ্যাবিলিটেশন রোগীর জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত করতে পারে।
ভারসাম্য উন্নত করা, পেশি নমনীয় রাখা ও শরীরে শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা যেতে পারে। গেইট ট্রেনিং বা হাঁটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোগীকে সঠিকভাবে, নিরাপদে ও স্বাভাবিক ছন্দে হাঁটা শেখানো হয়।
নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা তাইচি রোগীদের চলাফেরা ও ভারসাম্য উন্নত করতে সাহায্য করে। হাঁটার সময় মনোযোগ দিয়ে লম্বা পা ফেলার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে লাঠি বা ওয়াকার ব্যবহার করুন।