ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা অপ্রত্যাশিত নয় বরং অনুমিত?

ঢাকা পোষ্ট কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৫১

ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলো ঘটল, সেগুলো শুধু ‘দুর্ঘটনা’ বলে পাশ কাটিয়ে গেলে ভুল হবে। এগুলো আসলে সিস্টেম ব্যর্থতার লক্ষণ।


১৭ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে সড়ক, রেলে ও নৌপথেও ধারাবাহিকভাবে বড় প্রাণহানি ঘটেছে। ঈদযাত্রা এখন বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা সক্ষমতার একটি লিটমাস টেস্ট। এই ঈদে তিনটি ঘটনা বিশেষভাবে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে কোথায় সমস্যা।


প্রথমত, কুমিল্লার পাদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন।


দ্বিতীয়ত, সদরঘাটে লঞ্চের চাপে ছোট নৌযান পিষ্ট হয়ে প্রাণহানি ঘটে।


তৃতীয়ত, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মায় পড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।


তিনটি ঘটনাই আলাদা মনে হলেও, প্রকৌশল ও অপারেশনাল দৃষ্টিকোণ থেকে এদের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র আছে, আর সেটা হলো মানুষ, যান, অবকাঠামো যেখানে একসাথে মিশেছে সেখানেই ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হয়েছে


তাই একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরে ফিরে আসে তা হলো, কেন প্রতিবছর এত প্রস্তুতি থাকার পরেও আমরা প্রাণহানি আটকাতে পারছি না?


সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হলো স্পিড-ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা। ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজট তৈরি হলে অনেক চালক রাস্তা ফাঁকা পেয়ে ‘টাইম রিকভারি’ করতে গিয়ে অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং করে এবং রিস্ক নেয়।


এর সঙ্গে যুক্ত হয় মিশ্র ট্রাফিক যেখানে একই রাস্তায় বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, সিএনজি, ইজিবাইক, পথচারী সবাই একসাথে চলছে। এ অবস্থায় একটি ভুলই একাধিক মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


এছাড়াও বাসের অতিরিক্ত ভাড়া, টিকেট না পাওয়া, ভোগান্তি ইত্যাদি কারণে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে দূরের যাত্রায় মোটরসাইকেল ব্যাবহার করে।


একই রাস্তায় ভারী যান এবং দুই চাকার মোটরসাইকেল এর মিশ্রণ, যাদের মধ্যে গতি ও কাঠামোগত ভিন্নতা আছে, ভিন্নতা থাকা খুব বিপদজনক। তার প্রমাণ ২০২৬ সালেও ঈদের সময় মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা আগের বছরগুলোর মতো উদ্বেগজনক।


আমাদের পরিবহন ব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে, তা হলো যার একটি বাস/লঞ্চ তিনিও মালিক আর যার একাধিক  বাস/লঞ্চ তিনিও মালিক। এখানে সবাই চায় লাভ করতে আর এতে তৈরি হয় অনিয়ন্ত্রিত যাত্রী-দখল প্রতিযোগিতা।


এই প্রতিযোগিতা সড়কে গতি বাড়ায়, টার্মিনালে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এবং ফেরিঘাটে অপারেশনাল ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আগামী ঈদের আগে অন্তত যে রুটে যাত্রী চাপ বেশি সেই করিডোরগুলোয় বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং নৌ রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি সিস্টেম চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।


অর্থাৎ, নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট সংখ্যক অনুমোদিত অপারেটর, নির্দিষ্ট ট্রিপ-স্লট, একীভূত টিকিটিং, সময়ভিত্তিক পরিচালনা ইত্যাদি চালু করতে হবে। এতে ‘যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা’ কমবে, বাসস্ট্যান্ড, নৌ-ঘাট, হাইওয়ে সবখানেই অনিরাপদ চালনা কমবে। নিরাপত্তার দৃষ্টিতে এটি শুধু বাণিজ্যিক সংস্কার নয়; এটি দুর্ঘটনা ঠেকানোর একটি সাসটেইনেবল কৌশল।


রেলপথের ক্ষেত্রে মূল দুর্বলতা হলো রেলক্রসিং নিরাপত্তা। রেলক্রসিং এমন একটি জায়গা যেখানে ভুলের সুযোগ শূন্য হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনো মানবনির্ভর ব্যবস্থা, দুর্বল তদারকি ও মান্ধাতা আমলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আটকে আছি। অন্যদিকে নৌ-পথেও একই ধরনের সমস্যা। আমাদের টার্মিনালগুলোয় ঈদের সময় কেবল ‘অতিরিক্ত যাত্রী’ মূল সমস্যা নয়, বরং টার্মিনালের ডিজাইন ও অপারেশনাল নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল। নৌ-টার্মিনালে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী আলাদা রাখা, ছোট নৌযান নিষিদ্ধ এলাকা এবং ওঠানামার শৃঙ্খলা-এসব কাগজে থাকলেও মাঠে সবসময় কার্যকর হয় না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও