রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রও পৌঁছায় না ক্যাপ্টেন বেগের কাছে

বিডি নিউজ ২৪ সালেক খোকন প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ২১:৫৮

১৯৭১ সাল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে থাকা বাঙালি অফিসারদের অনেকেই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেক্টর কমান্ডার বা সাবসেক্টর কমান্ডারও হন। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মনোভাব, বাঙালি অফিসারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ওই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যারাকে সামরিক প্রস্তুতির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বাঙালি অফিসাররা। তাই তাদের ভাষ্য থেকে উঠে আসা নানা ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা বাঙালির সাহসের ইতিহাসকেই মূর্ত করে।


একাত্তরে জীবন বাজি রেখে কীভাবে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি অফিসাররা? একাত্তরের ওই দুঃসাহসিক ইতিহাস জানতেই মুখোমুখি হই এক কমান্ডারের।


বরিশাল শহরের সন্তান সাব-সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজ আলম বেগ, ‘ক্যাপ্টেন বেগ’ নামেই যিনি বেশি পরিচিত। থাকতেন করাচিতে। ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি) একজন এলিট কমান্ডো।


পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসার ঘটনাটি তিনি বললেন যেভাবে, “আমাদের মধ্যে কিছু ইন্টেলিজেন্সের লোকজন ছিল। তাদের মুখেই শুনতাম পূর্ব পাকিস্তানে কিছু একটা ঘটবে। উদগ্রীব হতাম তখন।


একদিন করাচি নেভাল পোর্টে ফিশিং করতে গিয়ে দেখি পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার জাহাজে হেভি আর্মস অ্যামুনেশন লোড করা হচ্ছে। তখনই বুঝে যাই ওরা খারাপ কিছু ঘটাবে। কিন্তু কমান্ডো হয়ে তো বসে থাকতে পারি না!


১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। কয়েক দিনের ছুটিতে দেশে আসি। সুলতান সাহেব ও নূর মোহাম্মদ ভাই ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। তাদের সঙ্গেই মিটিংয়ে বসি। তখনই পরিকল্পনা হয় দেশে খারাপ কিছু ঘটার আগে তারাই করাচিতে আমাকে মেসেজ পাঠাবেন। ফিরে এসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হব।


এরপর পাকিস্তান ফিরে গেলাম। হঠাৎ একদিন কমান্ডিং অফিসার টি এ খান একটি টেলিগ্রাম হাতে ছুটে আসেন। টেলিগ্রামে লেখা, ‘মাদার সিরিয়াস কাম শার্প’। বুঝে গেলাম পরিকল্পনা মোতাবেক এটি নূর মোহাম্মদ ভাই পাঠিয়েছেন।


‘মাদার’ মানে মাতৃভূমি। আর ‘সিরিয়াস’ লিখলে বুঝতে হবে যেভাবেই হোক ফিরতে হবে।


টি এ খান ছুটি দিতে চাইলেন না। কিন্তু আমি নিজেকে সংযত রাখলাম। আসলে পালিয়ে যাব এটা বুঝতে দিলাম না তাকে। কারণ তখন ওরা নানাভাবে আমাদের সন্দেহ করত।


ফরমাল ছুটি না নিয়েই পালানোর পরিকল্পনা আঁটছি। টাকার প্রয়োজনে শখের মোটরসাইকেলটাও বিক্রি করি নয়শ টাকায়। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল এম এ ওয়ালি। দেশ নিয়ে সেও ছিল চিন্তিত। পরিকল্পনার কথা শুনে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করল। রাজি হলাম। কিন্তু প্লেনের টিকিট তো নাই। অলরেডি পাকিস্তান থেকে লোকজন আসা বন্ধ। শুধু হাজিদের ফ্লাইট ওপেন ছিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও