লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে আবার ভর্তি পরীক্ষা কেন

প্রথম আলো তারিক মনজুর প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ২১:৩০

স্কুল পর্যায়ের যেকোনো শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে এখন পরীক্ষা দিতে হবে। প্রায় দেড় দশক আগের এই নিয়ম ২০২৭ সাল থেকে আবার চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এমনকি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্যও আর লটারি পদ্ধতি থাকছে না।


বিষয়টি নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু জাতীয় সংসদে প্রশ্ন উত্থাপনের পরদিনই সংবাদ সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলো। শিক্ষাবিদদের আপত্তি সত্ত্বেও কেন তাড়াহুড়া করে এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, সেটি ঠিক বোধগম্য নয়।


১৫ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে একজন সংসদ সদস্য বর্তমান ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আগে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হলেও এখন লটারির মাধ্যমে শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


এই সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহরে ভর্তি সংকটের কারণে অতীতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হলেও এটি পুরোপুরি যুক্তিসংগত নয়। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ভর্তির পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে তিনি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন।


সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব থেকে মনে হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানোর উপায়—স্কুলগুলোয় পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা। শহরের ‘ভালো’ স্কুলগুলোয় যেহেতু আসনসংখ্যা সীমিত, তাই পরীক্ষার পক্ষে কেউ কেউ যুক্তি দেখাতেই পারেন।


কিন্তু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্যও কেন একটি শিশুকে পরীক্ষা দিতে হবে, সেই প্রশ্ন সংগত কারণেই এসে পড়ে। যে শিশু স্কুলে যাওয়ার পর পড়তে ও লিখতে শেখে, তাকে এখন স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই পড়তে-লিখতে শিখতে হবে। শুধু শিখলেই হবে না, ভর্তিযুদ্ধে পাল্লা দেওয়ার মতো করে প্রস্তুতি নিতে হবে। তারপরও সব শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে না।


প্রথম শ্রেণির বাংলা বই খুললে যে কেউ দেখতে পাবেন, সেখানে বর্ণপরিচয় থেকে শিক্ষা শুরু হয় এবং তিন-চার শব্দের বাক্য পড়া ও লেখার মধ্যে তা সীমিত। ইংরেজি বইও প্রায় অনুরূপ ভাষাদক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে রচিত। গণিত বইয়ে সংখ্যার ধারণা আছে এবং সর্বোচ্চ দুই ঘর পর্যন্ত যোগ-বিয়োগ শেখানো হয়।


কিন্তু ঢাকার স্কুলগুলোর প্রথম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় এমন সব প্রশ্ন থাকত, যেগুলো দেখলে মনে হয়, শিক্ষার্থী বুঝি প্রথম শ্রেণির নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে! ২০১০ সাল পর্যন্ত যখন ভর্তি পরীক্ষা চালু ছিল, তখন এমনও দেখা গেছে, ‘ভালো’ স্কুলে ঢোকার জন্য দ্বিতীয় শ্রেণি পার হওয়া শিক্ষার্থীরাও প্রথম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছে।


দুঃখজনক হলেও সত্যি, ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে স্কুলগুলো প্রায়ই অবস্থান নেয়। এর মাধ্যমে স্কুলগুলোর বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকে—সেই আয় ভর্তির ফরম বিক্রি থেকেও হয়, ভর্তিতে অনিয়মের মাধ্যমেও হয়। তা ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষক মনে করেন, পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থী বাছাই করা সম্ভব। মাধ্যমিক শ্রেণির জন্য ‘মেধা’র প্রসঙ্গ স্বীকার করে নেওয়া গেলেও প্রাথমিকের একজন শিক্ষার্থীকে মেধাক্রমে মূল্যায়নের ব্যাপারটি গ্রহণযোগ্য নয়; বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য তো নয়ই। লটারির বদলে আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু করার ফলে নিশ্চিতভাবেই কোচিং-প্রাইভেটের দৌরাত্ম্য বাড়বে।


মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হলে সেটি প্রাথমিক স্তরের পরে করা ভালো। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বয়স এমন থাকে যে ভর্তি পরীক্ষা তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে। ‘ভালো’ স্কুলে ভর্তি হতে ব্যর্থ হলে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে মেধাহীন ও অযোগ্য মনে করতে পারে। তা ছাড়া নতুন সিদ্ধান্তের দরুন ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আগের মতো অর্থ লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠবে। নানা সমালোচনার কারণেই সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও