ইরান যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যে নতুন সংকট ডেকে আনছে
যুদ্ধের শুরুর দিকে দক্ষিণ ইরানের মিনাবের একটি মেয়েদের স্কুলে বোমা হামলায় ৭ থেকে ১২ বছর বয়স দেড় শতাধিক শিশু নিহত হয়। সেই হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়েছিল একটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সফটওয়্যার। প্রযুক্তির এই ব্যবহার খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভয় শুধু এটা নয় যে ক্ষেপণাস্ত্র আরও দ্রুত ছুটছে, ড্রোন আরও দূর পর্যন্ত নজর রাখতে পারছে বা কম্পিউটার দ্রুত হিসাব করতে পারছে। আসল উদ্বেগ অন্য জায়গায়। একসময় যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মানুষের ভেতরে যে দ্বিধা কাজ করত, যেখানে বিবেক, সংশয়, বিচারবোধ ও আইনের প্রশ্ন সামনে আসত, সেই মানবিক বিরতিটাই ধীরে ধীরে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যাচ্ছে।
এ কারণেই ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাগুলো শুধু ইরানকে ঘিরে একটি সামরিক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো গোটা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। যুক্তরাষ্ট্র যাকে অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ বলছে এবং ইসরায়েল যাকে ‘রোরিং লায়ন’ নামে ডাকছে, সেটিকে হয়তো একদিন সেই সন্ধিক্ষণ হিসেবেই দেখা হবে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুদ্ধের পেছনের বিশ্লেষণ কক্ষ থেকে উঠে এসে সরাসরি হত্যার সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে বসে পড়ল।
- ট্যাগ:
- মতামত
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা