কঠোর হামলার হুমকি, অনড় ইরান
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা গতকাল শনিবার দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এদিন দেশটির ওপর আরও কঠোর ও বিস্তৃত পরিসরে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের আরও নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা ও দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে ইরান কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না বলে আবারও জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকালও ইসরায়েলে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি এ–ও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ থেকে ইরান আক্রান্ত না হলে পাল্টা হামলা চালাবে না তেহরান।
যুদ্ধের অষ্টম দিনে গতকাল ইরানে হামলা আরও তীব্র করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর ও ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে দিনের শুরুতেই ব্যাপক হামলা চালানোর কথা জানায় ইসরায়েলি বাহিনী।
মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলায় হাইপারসনিক (শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা বিমানঘাঁটি ও কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে দুবাই বিমানবন্দরে।
ইরানের হামলায় মানামায় একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মাল্টা ও মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী দুটি তেলের জাহাজে আঘাত হানার দাবি করেছে আইআরজিসি।