ইরানে পুতুল সরকার বসাতে সফল হবে না ট্রাম্প প্রশাসন
জেফ্রি ডি স্যাকস একজন মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ক বিশ্লেষক। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্টের পরিচালক। জেফ্রি স্যাকসের তিনটি অর্থনীতিবিষয়ক গ্রন্থ নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মার্কিন সাংবাদিক গ্লেন ডিজেনকে দেয়া ভিডিও সাক্ষাৎকার থেকে সংক্ষেপিত ভাবানুবাদ ও অনুলিখন করেছেন আমিরুল আবেদিন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এ সংঘাত পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এ হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল বলে আপনার ধারণা?
উদ্দেশ্যটা বোঝা কঠিন না। আসলে ইরানের ক্ষমতা কাঠামোকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। ৩০ বছর ধরে ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এ স্বপ্নই দেখে আসছেন। এক্ষেত্রে বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ক্ষমতা ও ওয়াশিংটনের প্রভাব খাটানোর প্রবণতা ছিল। নানা কারণেই ইসরায়েল এ কাজটি করতে পেরেছে। আর এ লক্ষ্য সাধনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ অনেকগুলো সংঘাত তৈরি করেছে তারা। লিবিয়া, সুদান, সোমালিয়া, গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন এসব দেশে যুদ্ধ হয়েছেই। তবে ইরান সবসময়ই ছিল তাদের বড় লক্ষ্য। এসবই ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ওরা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আঞ্চলিক সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে সবসময়। আরব ভূখণ্ডকে নানাভাবে দমন করে ইসরায়েলের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছিল।
এভাবে কার্যত রাশিয়া ও চীনের মতো ভৌগোলিক শক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করা থেকে ঠেকানোর চেষ্টাও ভাবনায় আছে। তাই ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলাটিকে ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। এখন এটা অবশ্যই ইরানকে পুরোপুরি ধুলোয় মিশিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। কিন্তু এসবই বড় প্রেক্ষাপটের অংশ। সন্দেহ নেই, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বৈশ্বিক আধিপত্যবাদী লড়াই চালাচ্ছে। বলা হচ্ছে বিশ্ব বহু মেরুকরণের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু তার পরও যুক্তরাষ্ট্র তার আধিপত্য ধরে রাখতে চাচ্ছে। অন্তত সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এগুলো বিশ্বযুদ্ধের অংশ। এ যুদ্ধে লড়াই করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন যুদ্ধ ভেনিজুয়েলায় হয়েছে। কিউবাতেও হয়তো সামনে দেখা যাবে বা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এমন চরম সহিংসতা, বেপরোয়া আচরণ, মিথ্যা ও বিভ্রম যদি থাকে তাহলে এর ফল হবে ভয়াবহ। আমার বিশ্বাস, এটি ভালোভাবে শেষ হবে না।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ভূরাজনীতি
- ভূরাজনৈতিক অবস্থান