কারাগারে মৃত্যু : রাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে না
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। গণমাধ্যমের খবর বলছে, শনিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রমেশ চন্দ্র সেনের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর ওই বছরের ১৭ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হত্যাসহ ৩টি মামলায় কারাগারে ছিলেন।
অভ্যুত্থানের পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে এরকম আরও অনেক আওয়ামী লীগ নেতার কারাগারে মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ জানুয়ারি মেহেরপুর জেলা কারাগারে বন্দী গোলাম মোস্তফা (৫৫) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর খবরেও বলা হয়, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ২০১৩ সালে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ জামায়াত নেতা তারিক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ নিহত হওয়ার ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
গত ২২ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক মুন্নার (মুন্না চেয়ারম্যান) মৃত্যু হয় গাইবান্ধা জেলা কারাগারে। হঠাৎ তার এ মৃত্যুতে জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই মৃত্যুর খবরটিও এরকম যে, সকালে মুন্না চেয়ারম্যান কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এর ঠিক দুই মাস পরে এই গাইবান্ধা জেলাতেই তারিক রিফাত নামে এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়। গোবিন্দগঞ্জে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর কিছুক্ষণ পরেই অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। যদিও দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- কারাগারে মৃত্যু