আগামী দিনগুলোর জন্য বাংলা ভাষা কতটুকু প্রস্তুত

প্রথম আলো তারিক মনজুর প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৩

প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের পরও বাংলা ভাষা টিকে আছে। অথচ লাতিন আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বাইরের ভাষার প্রভাবে স্থানীয় ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে কিংবা পরিসর কমে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা ছোট কোনো ভাষায় পরিণত হয়েছে।


বাংলা ভাষার এই শক্তির পেছনে রয়েছে তার হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাহিত্য ও বিপুল ভাষিক জনগোষ্ঠী; কিন্তু এরপরও বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের মধ্যে একধরনের ভীতি কাজ করে।


আমরা চিন্তা করি, এ ভাষা আগামী পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত কি না অর্থাৎ ইংরেজির দোর্দণ্ড প্রতাপের মধ্যে বাংলা টিকে থাকবে কি না কিংবা যেভাবে বাংলা ভাষার ‘অশুদ্ধ রূপ’ ও ‘অপপ্রয়োগ’ বিস্তার লাভ করছে, তাতে এ ভাষা ব্যবহারযোগ্যতা হারাবে কি না।


আবার অনেকে এমনও বলেন, বাংলা ভাষা ‘সহজ’ করার জন্য একে সংস্কার করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার সক্ষমতা ও এর ধরন-বৈশিষ্ট্যকে তাঁরা বিবেচনাতেই নেন না।


ইংরেজি ভাষার প্রভাব


ভাষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং সাম্প্রতিক সময়ের ভাষাগবেষণা বলছে, আগামী ১০০ বছরে বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষার আধিপত্য প্রায় নিরঙ্কুশ হবে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইংরেজি এখনই প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সামনের দিনগুলোতে বিভিন্ন দেশের মানুষ স্থানীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অন্তত দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যাপকভাবে ইংরেজি ব্যবহার করবেন।


বাংলাদেশের শিক্ষা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে গত কয়েক দশকে সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে ইংরেজির প্রভাব বেড়েছে। এখন শুধু উচ্চশিক্ষায় ইংরেজি ব্যবহৃত হচ্ছে না, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও ‘ইংরেজি ভার্সনের’ পাঠ্যবই জনপ্রিয় হচ্ছে।


অফিস-আদালতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিসিএসসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।


বাংলা ভাষার জটিলতা


অনেকেই প্রশ্ন করেন, বাংলা ভাষায় দুটি ই-ঈ, উ-ঊ, ণ-ন কিংবা তিনটি শ-ষ-স থাকার দরকার কী। তাঁদের মতে, এত বর্ণবৈচিত্র্য থাকার কারণে বানানেও দ্বিধা তৈরি হয়। তাঁদের যুক্তি, ইংরেজি ভাষা ২৬টি বর্ণ নিয়ে ভালোভাবেই চলছে, তাহলে বাংলাতে এত বর্ণের প্রয়োজন কী।


মজার ব্যাপার হলো কোনো কোনো ধ্বনিবিজ্ঞানীও বাংলা বর্ণমালা থেকে বর্ণ হ্রাসের প্রস্তাব করেছেন। জ-য, ঙ–ং থেকেও একটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ আছে কারও কারও প্রস্তাবে।


তবে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার, বর্ণ কম বা বেশি থাকা কোনো ভাষার মূল সমস্যা নয়। উচ্চারণ-পার্থক্য আলাদা করার জন্য উনিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলা ভাষায় য়, ড়, ঢ়, ৎ বর্ণের সংযুক্তিও ঘটেছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এসব বর্ণকে তাঁর বর্ণপরিচয় (১৮৫৫) গ্রন্থে জায়গাও দিয়েছেন।


তা ছাড়া একই উচ্চারণের একাধিক বর্ণ থাকা কিংবা একই বর্ণের একাধিক উচ্চারণ থাকা কেবল বাংলার বৈশিষ্ট্য নয়, ইংরেজিসহ প্রধান সব ভাষাতেই এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এখন যদি বাংলা থেকে বর্ণ কমানো হয়, তবে এ ভাষা তার নিজের বৈশিষ্ট্য ও চেহারাই হারিয়ে ফেলবে।


আমাদের হীনম্মন্যতা


বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০ কোটির বেশি মানুষ বাংলায় কথা বলে। কালের প্রবাহে এ ভাষা নিজস্ব কিছু ধরন ও বিশেষত্ব তৈরি করেছে। যেমন বাংলা ভাষায় তারিখবাচক শব্দে ই, শে ইত্যাদি শব্দাংশ ব্যবহার করে ১৬ই, ২১শে এভাবে লেখা হয়।


আবার আমাদের স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরির ক্ষেত্রে প্রত্যয়সহ কয়েক রকম পদ্ধতি আছে। ফলে জেলে–জেলেনী বা জেলে–জেলে বউ—এ ধরনের স্ত্রীবাচক শব্দ পাওয়া যায়। শব্দসংক্ষেপের জন্য তাং, নং, মোঃ লেখার প্রবণতা আছে।


এ ধরনের প্রয়োগবৈচিত্র্যকে বিবেচনায় না নেওয়ার কারণে এবং ইংরেজি ভাষার রূপকে ‘আদর্শ’ মনে করার কারণে, বাংলা ভাষার অনেক বর্ণের ব্যবহারই মানুষের কাছে ‘অপপ্রয়োগ’ বা ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে মনে হয়।


তা ছাড়া মানতে দ্বিধা নেই, বর্তমান পৃথিবীতে বহুভাষিক মানুষের কাছাকাছি অবস্থানের দরুন কিংবা সামাজিক চিন্তা বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যবহৃত ভাষাতেও দ্রুত রূপান্তর ঘটছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও