শিক্ষা আইনটি কেন দরকার

প্রথম আলো চৌধুরী মুফাদ আহমদ প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩২

শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ‘শিক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে এবং জনসাধারণের মতামতের জন্য আইনটির খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। মাত্র ১২ পৃষ্ঠার এই খসড়া আইনের ওপর মতামত দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের শিক্ষা নীতি প্রণয়নের পরপরই শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। একটি আইনের খসড়া একাধিকবার মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য প্রেরণ করা হলেও নানা কারণে আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের এই শেষ সময়ে একটি শিক্ষা আইন করা সমীচীন হবে কি না, তা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর প্রথম পাতায় এ নিয়ে একটি রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে।


বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে আশু ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের জন্য শিক্ষাসংক্রান্ত কিছু অধ্যাদেশ ও আইন করা জারি হয়েছে এবং নানা প্রয়োজনে সেসব আইনের কিছু কিছু ধারা সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে; কিন্তু সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তার জন্য কোনো সমন্বিত আইনি কাঠামো নেই। এ কারণে সরকারের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। প্রস্তাবিত আইন সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত বলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। এ রকম একটি আইনের ইতিবাচক দিক কী, তা বোঝার জন্য উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করব।


‘শিক্ষা সুযোগ নয়, অধিকার’—কথাগুলো বাংলাদেশে একটি স্লোগান মাত্র। বাংলাদেশ সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার’ এবং ‘আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের’ কথা বলা হলেও শিক্ষাকে আইনিভাবে বলবৎযোগ্য কোনো মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রস্তাবিত আইনে প্রাথমিক শিক্ষাকে শিশুর অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগের অপব্যবহার করে বা সেই সুযোগ লাভের আশায় দেশের নানা এলাকায় বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে কোনো কোনো এলাকায় জনসংখ্যা অনুযায়ী যতগুলো স্কুল থাকা প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি স্কুল রয়েছে। সামান্যসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে এসব স্কুল যেনতেনভাবে চলছে। দেশে বিশাল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও এখন নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৪২টি বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০০ জনের কম। পাশাপাশি অবস্থিত একাধিক ক্ষুদ্র বিদ্যালয় একীভূত করে সেই একীভূত বিদ্যালয়কে শক্তিশালী করা উচিত; কিন্তু প্রয়োজনীয় আইনি সমর্থন না থাকার কারণে এসব উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয় না।


প্রস্তাবিত আইনে সরকারকে এরূপ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ একটি সাধারণ বিষয়। প্রস্তাবিত আইনে এর বিরুদ্ধে বিধান রাখা হয়েছে, যা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও পাঠদানে অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ বন্ধ করবে।


প্রস্তাবিত আইনের কোনো বিধান দেশের শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর—এমন কথা বলতে কাউকে এখনো শুনিনি। তবুও এই আইন সবার কাঙ্ক্ষিত সব বিধানসংবলিত একটি আদর্শ আইন হয়তো নয়। অনেকে হয়তো ‘আরও ভালো’ আইন দেখতে চান; কিন্তু ‘আরও ভালো’ আইনের আশায় আমরা একটি ‘যথাসাধ্য ভালো’ আইনকে স্বাগত জানাব না কেন? একটি ‘যথাসাধ্য ভালো’ আইন যদি এখন জারি হয়, তা অদূর ভবিষ্যতে সেই আইনকে ‘আরও ভালো’ করতে কোনো অসুবিধা নেই।


এই আইনে কী নেই বা কী থাকা উচিত ছিল, তা দেখতে গেলে আমরা ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে বসব; বরং প্রস্তাবিত আইনে যা আছে, তা যথাযথ কি না, সেটিই দেখা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, এই আইনে কেবল প্রাথমিক শিক্ষাকে শিশুর অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা ১৯৯০ সালের একটি আইনের প্রতিধ্বনি।


আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চতুর্থ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য পর্যায়ক্রমে আমাদের দেশে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক হওয়া উচিত এবং এখনই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে অর্থাৎ নিম্নমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা হিসেবে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা উচিত; কিন্তু তার মানে এই নয় যে আইনে এই বিষয়ের উল্লেখ নেই বলে আইনটি পাস হওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যৎ সরকার অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার স্তর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে খুব সহজেই আইনটি সংশোধন করতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও