ভোটের মাঠে আওয়ামী নেতাদের ডিমান্ড, রুমিনের হাঁস ও জিএম কাদেরের দুশ্চিন্তা

প্রথম আলো সালেহ উদ্দিন আহমদ প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩২

নির্বাচনের প্রচারণা ভালোই এগোচ্ছে। এখন পর্যন্ত মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চলছে। আমি বলব, এই সময়ে পরিবেশ এর চেয়েও শান্তিপূর্ণ থাকলে আমি বিস্মিত ও শঙ্কিত হতাম। বিস্মিত হতাম; কারণ, সেটা হতো অস্বাভাবিক। আর শঙ্কিত হতাম এ কারণে যে ঝড়ের আগের ‘প্রশান্তি’ আমরা আগেও দেখেছি।


২০২৪ সালের জানুয়ারির ডামি-আমি নির্বাচনটাও ছিল খুবই শান্তিপূর্ণ। তারপরই শুরু হলো আন্দোলন ও অশান্তি।


দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল শুরু করেছে ‘অপারেশন ভোট হান্ট’। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, উত্তাপ বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কিছু ছোটখাটো অঘটনও ঘটবে, কিছু ডিমের অপচয় হবে এবং নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে গরম-গরম কথা বলবেন—ভোটযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীকে কাবু করে নকআউট করাই হবে সবার লক্ষ্য।


নির্বাচনের এই সময়ের উত্তাপ, বিরক্তি বা টেনশনটাকে আমরা পজিটিভলি নিতে পারি। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের পর নেতাদের আর তেমন দেখা যাবে না। টেনশন কমে যাবে, জনগণও হাঁপ ছেড়ে বাঁচবেন।


যাঁরা নির্বাচিত হতে পারেননি, তাঁরা বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম নেবেন, আবার পরের নির্বাচনে তাঁদের মাঠে দেখা যাবে। যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা সবাই ঢাকা চলে যাবেন, নতুন মিশনে যোগ দিতে। একদল সরকার গঠন করবেন—মন্ত্রী, স্পিকার কিংবা ডেপুটি হবেন; অন্যরা বিরোধী দলের নেতা, উপনেতা বা হুইপ হবেন, তাঁদের প্রতাপও কম নয়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পাস হলে নির্বাচিত ব্যক্তিদের কাজ আরও বেড়ে যাবে—সনদের কাগজপত্র খুঁজে শাসনতন্ত্রে জোড়া লাগাতে হবে; ডিসেন্টগুলোও ভালো করে পরখ করে দেখতে হবে। তাই বলছিলাম, আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এবার অনেক কাজ করতে হবে।


তবে প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় কথা, আগে নির্বাচিত হতে হবে। নির্বাচিত হতে নেতারা নানা কৌশল অবলম্বন করবেন; সেগুলোকে কেউ সিরিয়াসলি নেবেন, কেউবা আবার বাঁকা চোখে দেখবেন।


তাহলে চলুন আমরা নির্বাচনী মাঠটা একটু ঘুরে দেখি—আমাদের নেতারা ‘ভোট হান্ট’ করতে কে কী কৌশল নিচ্ছেন, কে কী করছেন এবং কে কী বলছেন।


এনসিপি নেতাদের কবর জিয়ারত


এনসিপির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করে ২০২৪ সালের গণ–আন্দোলনের নেতা শরিফ ওসমান হাদি এবং ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলনের তিন নেতা শেরেবাংলা ফজলুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমউদ্দিনের কবর জিয়ারত করে।


অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির কবর জিয়ারতের মধ্যে ১৯৭১ সাল কি বাদ গেল? এই তরুণ নেতারা যদি মিরপুর স্মৃতিসৌধের পাশে অবস্থিত ১৯৭১–এর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কবরগুলো জিয়ারত করে আসতেন, তাহলে তাঁরা কিছু বিব্রতকর প্রশ্ন থেকে রক্ষা পেতেন।


ফখরুলের ‘ডেভিল হান্ট’


নির্বাচনের সময় সবাই ভোট হান্টিংয়ে ব্যস্ত। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলও তা–ই করছেন। দেশে এখন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট-২’ চালু আছে—আওয়ামী লীগ হলেই বন্দিশালা আর জয় বাংলার শব্দ শুনলেই জলকামান। নির্বাচনের সময় আশা করা যাচ্ছিল, ডেভিল হান্টের ৩ নম্বর সংকেত জারি করা হবে। কিন্তু এরই মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিনব কায়দায় আওয়ামী লীগারদের ভোট হান্টিংয়ে লেগে গেলেন।


সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শোল্টিহরি বাজারে নির্বাচনী গণসংযোগের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছেন ভারতে। তিনি ভারতে গেছেন ভালো করেছেন। এলাকার সমর্থক-কর্মীদের বিপদে ফেলে গেছেন কেন? আমরা কর্মী-সমর্থকদের জানাতে চাই, আপনারা বিপদে পড়বেন না। আমরা আছি আপনাদের পাশে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না।’


মির্জা ফখরুলের ‘মানবিক’ বাণীতে আওয়ামী লীগাররা হয়তো খুশি হবেন, কিন্তু তাঁরা দল বেঁধে বিএনপিকে ভোট দিতে যাবেন কি না, তা দেখার কৌতূহল অনেকেরই থাকবে।


প্রচারে আওয়ামী লীগ নেতাদের ডিমান্ড বাড়ছে


নির্বাচনের প্রচারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বেশ ডিমান্ড আছে। যদিও আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারছে না, তবে স্থানীয় অনেক নেতা অন্য দলগুলোর পক্ষে বিভিন্ন সভা–সমিতিতে বক্তব্য রাখছেন।


সম্প্রতি শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুর পক্ষে নির্বাচনী সভার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। সভায় বিএনপি প্রার্থী অপুকে সমর্থন জানিয়ে মহিষার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌকিদার বক্তব্য দেন। তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তৃতা শেষ করেন।


জামায়াতে ইসলামীও পিছিয়ে নেই। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের জনসভায় বক্তৃতা করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। নায়েবে আমির বলেন, ‘সালাউদ্দিনের বাবা এই এলাকায় আমার অভিভাবক ছিলেন। সে কী বলতে চেয়েছে, আপনারা বুঝেছেন তো? কোথায় ভোট দেওয়ার কথা বলেছে, আপনারা বুঝে নিয়েন।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও