শীতকাল ছোট হচ্ছে, ৭০ বছর পর কেমন হবে
মাঘের শীতে বাঘ পালায়, এমন একটি কথা চালু আছে। এখন মাঘ মাস চলছে। কিন্তু সেই ‘বাঘ পালানো’ শীত কোথায়? নিকট অতীতের কথা স্মরণ করে কেউ বলতেই পারেন, এই তো ডিসেম্বরের শেষ থেকে হাড়কাঁপানো শীত গেল। হ্যাঁ, শীত ছিল বটে। কিন্তু কয় দিন স্থায়ী ছিল?
না, শীত স্থায়ী হচ্ছেও না। এমনটাই মনে করেন দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক জাহিদুল ইসলাম (৭১)। এ জনপদে শীত আগেই শুরু হয়, থাকেও দীর্ঘদিন। এখানকার হাড়কাঁপানো শীত সর্বজনবিদিত। কিন্তু এবার তেমন শীতের স্থায়িত্ব ছিল কম।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটা সময় আমরা দেখেছি আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়ে শীতের আবহ শুরু হয়ে যেত। আর কনকনে শীত থাকত ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা গায়ে শীতের কাপড় জড়িয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যেতাম। পৌষ-মাঘ মাসে কুয়াশা আর শীতে ঘর থেকে বের হওয়াটাই কঠিন ছিল। কিন্তু এখন মাঘ মাসেই মনে হচ্ছে শীত চলে যেতে শুরু করেছে।’
বাংলাদেশ গরমপ্রধান দেশ। এখন গরমের ধরন বদলাচ্ছে—এটা আর শুধু কয়েক সপ্তাহের তাপপ্রবাহের গল্প নয়। গরমের ব্যাপ্তি দীর্ঘ হচ্ছে, রাতের তাপ কমছে না। আর শীত—যে ঋতু একসময় ‘কুয়াশা-শৈত্যপ্রবাহ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, তা ক্রমেই ছোট হয়ে যাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে শতাব্দীর শেষে শীত অনেকটাই কমে যেতে পারে। গড়পড়তা যেখানে ৮ থেকে ১০টি শৈত্যপ্রবাহ হয়, তা হতে পারে দু–চারটি। শীতের দিনের সংখ্যা কমে যেতে পারে। কৃষি, স্বাস্থ্যসহ নানা ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাবের ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ।