কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখা ছাত্রলীগ নেতা কেন প্যারোলে মুক্তি পেলেন না

প্রথম আলো প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১৩

শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন বাগেরহাট সদরের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের অনেকে। তখন মুখে মুখে খবর ছড়ায়, এক গৃহবধূ ও তাঁর ৯ মাসের সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে তাদের বাড়িতে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামীর বাড়ির সিলিংয়ে রশির সঙ্গে ঝুলছিলেন গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালির (২২) মরদেহ। আর ছিল তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান সেজাদ হাসানের (নাজিফ) নিথর দেহ।


খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা কানিজের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। কানিজ নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের স্ত্রী। সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কারাগারে আছেন।


জেলগেটে স্ত্রী-সন্তানকে শেষ দেখা


কানিজ ও তাঁর সন্তান সেজাদের মরদেহ শুক্রবার লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কারাগারের সামনে নেওয়া হয় বন্দী সাদ্দামকে শেষবার দেখানোর জন্য। সেখানে সাদ্দাম ৫ মিনিটের কম সময় পান তাদের দেখার জন্য। সে সময়ের কথা বলতে গিয়ে সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই বাচ্চাকে কোলে নিতে পারেনি। এই আক্ষেপে গতকাল বলছে, “জীবিত অবস্থায় আমি আমার বাচ্চাকে কোলে নিতে পারলাম না, মৃত্যুর পর কোলে নিয়ে কি করব?” সে সন্তানের মাথায় হাত রেখে বলেছে, “আমি ভালো বাবা হতে পারলাম না, আমি ভালো স্বামী হতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও।”—এটা ছিল আমার ভাইয়ার শেষ কথা।’


সাদ্দামের প্যারোল নিয়ে কী হয়েছে


২০২৫ সালের এপ্রিলে গোপালগঞ্জ থেকে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি বর্তমানে ১১টি মামলায় যশোর কারাগারে আছেন। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত, অন্যগুলোতে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁর প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিল পরিবার।


সাদ্দামের ছোট ভাই শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভাবি ও ভাতিজার মৃত্যুর পর তাদের শেষবারের জন্য দেখার সুযোগ দিতে কারাগারে বন্দী থাকা ভাইকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন আমার মামা হেমায়েত উদ্দিন।


কারাবিধিতে অন্য জেলার কারাগারের বন্দী থাকলে তা স্থানীয় প্রশাসনের কিছুই করার থাকে না। তাই তাদের পরামর্শে আমরা শনিবার সন্ধ্যায় ভাবি ও ভাতিজার মরদেহ নিয়ে কারাফটকে গিয়ে ভাইকে শেষবারের জন্য দেখাই। সেখানে পাঁচ মিনিটের জন্য সুযোগ করে দেয় প্রশাসন।’


প্যারোল ইস্যুতে যশোর জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি


এই ঘটনায় ‘স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার সঠিক তথ্য’ শিরোনামে যশোর জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তাঁর স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও