You have reached your daily news limit

Please log in to continue


বৈশ্বিক পেশিশক্তির থাবা থেকে বাঁচার পথ কী

১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ চার দশকের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটায় বিশ্ববাসী ভেবেছিল, এবার হয়তো পারমাণবিক যুদ্ধের বিভীষিকা কাটবে, অস্ত্রের ঝনঝনানি থামবে আর শুরু হবে এক শান্তিপূর্ণ সুবর্ণ যুগ। কিন্তু ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর। তিন দশক পর এসে দেখা যাচ্ছে, সেই আশা শুধু মরীচিকাই ছিল না, বরং পৃথিবী এখন আগের চেয়েও বেশি অস্থির, অনিরাপদ এবং একমেরুকেন্দ্রিক আধিপত্যের জাঁতাকলে পিষ্ট। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা দম্ভ করে বলেছিলেন ‘এন্ড অব হিস্ট্রি’ বা ইতিহাসের সমাপ্তি। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, উদারনৈতিক গণতন্ত্র আর পুঁজিবাদের চূড়ান্ত জয় হয়ে গেছে। কিন্তু আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি সেই ইতিহাস সমাপ্ত হয়নি; বরং তা এক রক্তক্ষয়ী পুনরাবৃত্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিশ্রুতির খেলাপ ও ন্যাটো সম্প্রসারণ

সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের সময় জার্মানির পুনঃএকত্রীকরণের শর্ত হিসাবে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার মিখাইল গরবাচেভকে কথা দিয়েছিলেন-‘ন্যাটো এক ইঞ্চিও পূর্বদিকে এগোবে না।’ অথচ আজ আমরা কী দেখছি? ওয়ারশ জোট বিলুপ্ত হয়ে গেলেও ন্যাটো বিলুপ্ত হয়নি। বরং এটি ক্রমাগত পূর্বদিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ১৯৯৯ সালে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও চেক প্রজাতন্ত্রের যোগদানের মাধ্যমে ন্যাটোর সীমানা রাশিয়ার দিকে সরতে শুরু করে। এরপর ২০০৪ সালে আরও সাতটি দেশ (এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া) ন্যাটোতে যোগ দেয়। এটি সরাসরি রাশিয়ার দোরগোড়ায় পশ্চিমাদের সামরিক উপস্থিতির শামিল। ন্যাটোর এই পূর্বমুখী সম্প্রসারণই মূলত আজকের ইউক্রেন সংকটের মূল কারণ। রাশিয়া দীর্ঘকাল ধরেই ইউক্রেনকে তার জন্য ‘রেড লাইন’ হিসাবে ঘোষণা করে আসছিল। ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের সংবিধান সংশোধন এবং পশ্চিমাদের মদদকে রাশিয়া তার অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসাবে দেখেছে। ফলে যে ন্যাটো গঠিত হয়েছিল শান্তিরক্ষার দোহাই দিয়ে, তার সম্প্রসারণই শেষ পর্যন্ত একটি ভয়াবহ যুদ্ধের প্রধান উসকানিদাতা হিসাবে কাজ করছে।

ন্যাটোর সম্প্রসারণের পেছনে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং মার্কিন অস্ত্রশিল্পের এক বিশাল বাজারও কাজ করেছে। নতুন সদস্য দেশগুলোকে ন্যাটোর মানদণ্ড অনুযায়ী অস্ত্র কিনতে হয়, যার সিংহভাগ লাভ যায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরশিল্পের পকেটে। যখন একটি সামরিক জোট শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে দমনের লক্ষ্যে কাজ করে, তখন শান্তি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ন্যাটোর টিকে থাকা এবং এর পরিধি বৃদ্ধি প্রমাণ করে, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হলেও পশ্চিমাদের ‘শত্রু খোঁজা’র মানসিকতা শেষ হয়নি।

ইরাক থেকে গাজা : দ্বিমুখী নীতির নগ্নরূপ

স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি সংঘটিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ‘গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র’ থাকার অজুহাতে ইরাকে ধ্বংস অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। লাখ লাখ মানুষ হত্যা আর একটি সুন্দর রাষ্ট্রকে নরক বানিয়ে ফেলার যুক্তি আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যপট আমরা আজ দেখছি গাজায়। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের যে বর্বরোচিত ও অমানবিক কর্মকাণ্ড চলছে, তাতে নির্লজ্জভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে মানবাধিকারের তথাকথিত ধ্বজাধারী আমেরিকা। গাজায় ইসরাইলের বর্তমান অভিযান এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার নৈতিক কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। গাজায় যখন হাজার হাজার শিশু ও নারী নির্বিচারে প্রাণ হারাচ্ছিল, হাসপাতাল এবং স্কুল যখন বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র শুধু মৌখিকভাবে ‘বেসামরিক লোকবল রক্ষার’ আহ্বান জানিয়েছে।

শুধু গাজার ধ্বংসযজ্ঞ নয়-ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ও সরকার পরিবর্তনের হুমকি, কিউবাকে হুমকি, এমনকি গ্রিনল্যান্ড দখল করার অদ্ভুত বাসনা-ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ আচরণই ইঙ্গিত দেয়, আন্তর্জাতিক আইন এখন শুধু দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর প্রয়োগ করার জন্য। শক্তিশালীরা এসব ক্ষেত্রে আইনের ঊর্ধ্বে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন