ঘরের ভেতর আগুন, বাড়ির ছাদে তালা

জাগো নিউজ ২৪ আমীন আল রশীদ প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৬

গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাড়িতে আগুনে প্রাণ হারান দুই পরিবারের শিশুসহ ছয়জন। তবে আগুনে পুড়ে নয়, ঘন কালো ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে তাদের নির্মম মৃত্যু হয়। স্বজনরা বলছেন, তারা দৌড়ে ছাদে উঠতে পারলে বেঁচে যেতেন। কিন্তু ছাদের দরজায় ছিল তালা।


ছাদ সব সময় খোলা এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য সেটি উন্মুক্ত—এরকম সৌভাগ্যবান ভাড়াটিয়ার সংখ্যা ঢাকা শহরে হাতেগোনা। কেন বাড়িওয়ালা ছাদের দরজায় তালা দিয়ে রাখেন কিংবা কেন ছাদে ওঠার মতো পরিবেশ থাকে না—তার অনেকগুলো কারণ আছে। সেসব কারণ বিশ্লেষণের পাশাপাশি ঢাকাসহ বড় শহরের ভাড়াটিয়াদের দৈনন্দিন যন্ত্রণা লাঘবে রাষ্ট্র কী করছে—সেই আলোচনাটিও জরুরি।


উত্তরা ট্র্যাজেডির বিষয়ে গণমাধ্যমের খবর বলছে, অনেকে আগুন থেকে বাঁচতে ছাদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দরজায় তালা থাকায় ছাদেও উঠতে পারেননি। নিজেদের ফ্ল্যাটে বা সিঁড়িতেই আটকা পড়েন। ধোঁয়ার তীব্রতায় শ্বাস নিতে না পেরে একসময় অনেকে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।


একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়, ‘এই ফ্যামিলিটা ছাদে গেলে বাঁচতে পারতো, কিন্তু ঢাকার বেশিরভাগ বাড়িওয়ালারা ছাদের চাবি ভাড়াটিয়াদের কাছে দিয়ে রাখে না। জানালা দিয়ে চিৎকার করে বলছিল বাঁচাতে, আমরাও যেতে পারছিলাম না আগুনের কারণে। পরে বললাম আপনার ছাদে চলে যান। পরে বলছে ছাদের গেটে তালা দেওয়া।’


অনলাইনে এই খবরের নিচে অসংখ্য মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কয়েকটা এরকম:


১. তালাটা ভেঙে ছাদে যাওয়া যাইতো..! জীবনটা বাঁচলে তালা হাজারটা কেনা যাইতো।
২. ঢাকার বেশির ভাগ বাসায়তেই ছাদ তালা দেওয়া আর চাবি ভাড়াটিয়াদের কাছে থাকে না। ইভেন কোনো প্রয়োজনেও যদি ছাদের চাবি চাওয়া হয়, বহু কৈফয়তের পর সেইটা পাওয়া যায়।
৩. যেকোনো জায়গায় বাড়িওয়ালাদেরই পাওয়ার। কয়েক বছর পর পর বাড়ি ভাড়া বাড়ায় অথচ সরকার তাদের ট্যাক্স বাড়ায় না।
৪. আমার বাসা খুলনা। আমাদের বাসার ছাদের গেইট সবসময় খোলা থাকে এবং আমরা সব ভাড়াটিয়া যখন খুশি তখন ছাদে যাই। আমাদের বাসার ছাদ উন্মুক্ত।


প্রসঙ্গত, গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে একটি কেমিক্যালের গোডাউনে আগুন এবং দমবন্ধ হয়ে ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ওই মৃত্যুর পেছনেও ভবনের ছাদ তালাবদ্ধ থাকাকে দায়ী করা হয়। সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, কেমিক্যালের গোডাউনে আগুন লাগার পর চারদিকে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে থাকে। দ্রুত আক্রান্ত হন ঠিক পাশের চারতলা পোশাক কারখানার ভবনটির কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাশের কারখানার আগুন দ্রুত সরু গলির ওপারের পোশাক কারখানার ভবনের নিচে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে পোশাক কারখানার কর্মীরা নিচে নামতে পারেননি। আবার ছাদের দরজায় তালা থাকায় ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ওপরেও যেতে পারেননি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও