বাংলাদেশের রূপান্তরে প্রকৌশল শিক্ষাকে কীভাবে আরো যুগোপযোগী করা যায়
প্রথম শিল্প বিপ্লবের (১৭৬০-১৮৪০) প্রেক্ষাপটে প্রকৌশল শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পায়ন ও সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ শিক্ষা ব্যবস্থা নানা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আগের সব পর্ব থেকে ভিন্ন—এর দ্রুতগতি, গভীর জটিলতা এবং অনিশ্চয়তা ভবিষ্যৎমুখী ও সাহসী পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে। এ বাস্তবতায় প্রকৌশল শিক্ষায় কেবল পরিমাণগত নয়, মৌলিক ও গুণগত রূপান্তর এখন সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন।
আজকের প্রকৌশল আর কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ক্রমে নির্ভর করছে সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, অভিযোজন ক্ষমতা ও আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতার ওপর। প্রকৌশলের বিস্তার জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পৌঁছে গেলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ—প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, পরিবেশগত চাপ ও জটিল সামাজিক চাহিদা। এসব মোকাবেলায় বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানা শিক্ষা মডেল প্রণয়ন করছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ করছে, আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং আউটকামভিত্তিক শিক্ষায় জোর দিচ্ছে। বর্তমান সমাজ প্রকৌশলীদের কাছ থেকে শুধু যন্ত্র বা অবকাঠামোর নকশা নয়—বরং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশা করছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- চতুর্থ শিল্পবিপ্লব