‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র হয় না’
খ্যাতিমান ভারতীয় লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট অরুন্ধতী রায় বাংলাদেশে এসেছিলেন ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবিমেলা’য় অংশ নিতে এসেছিলেন। কথা ছিল ওই বছরের ৫ মার্চ বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কমপ্লেক্স মিলনায়তনে তিনি নিজের লেখকজীবন নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু বক্তৃতা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিয়েও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করে নেয় পুলিশ। কিন্তু কী কারণে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি বাতিল করা হলো, এর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি পুলিশ। (প্রথম আলো, ০৫ মার্চ ২০১৯)।
এই ঘটনার আগ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের বিরাট অংশ জানতোই না যে, অরুন্ধতী রায় ঢাকায় এসেছেন এবং একটি অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের তৎপরতা, অতি উৎসাহ কিংবা তাকে কথা বলতে না দেওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অরুন্ধতীর নামা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাড়ামহল্লার চায়ের দোকানেও তখন বিষয়টা নিয়ে আলোচন-সমালোচনা শুরু হয়। মানুষ মূলত পুলিশকেই দোষারোপ করে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত যে একটি থানার একজন ওসির নয়, বরং অরুন্ধতীর মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখককে আমন্ত্রণ জানিয়ে কথা বলতে না দেওয়ার পেছনে যে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে কোনো কোনো গোয়েন্দা সংস্থাই মূল ভূমিকা পালন করেছে—তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।
- ট্যাগ:
- মতামত
- বিশ্ব গণমাধ্যম
- গণমাধ্যম