খামেনির মৃত্যু ও ইরানে এক যুগের অবসান
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি সারা জীবন ধরে এমন এক বিপ্লবকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন, যা ক্রমেই ইতিহাসের অচল জিনিসের স্তূপে গিয়ে পড়ছিল।
জর্জ অরওয়েল তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘নাইনটিন এইটি ফোর’-এ লিখেছিলেন—অলিগার্কিক শাসনের সারকথা হলো মৃতদের চাপিয়ে দেয়া এক বিশ্বদৃষ্টি, যা জীবিতদের জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিগত প্রায় চার দশক ধরে ইরানে খামেনি ঠিক সেই কাজটাই করেছেন।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র তিনি নিজে নির্মাণ করেননি, এটি তিনি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছিলেন। অর্থাৎ এ প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সে ইতিহাস একবার দেখে নেয়া যাক। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে তখন রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। এ রাজতন্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ছিল। রাজতন্ত্র উৎখাত করার মাধ্যমে ইরানে ইসলামপন্থী ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ইসলামপন্থী প্রজাতন্ত্রের তিনটি আদর্শিক স্তম্ভ ছিল। এ তিনটি স্তম্ভ হলো— ‘আমেরিকার মৃত্যু’, ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ এবং ‘নারীর বাধ্যতামূলক হিজাব।’ নারীর বাধ্যতামূলক হিজাব পরাকে খোমেনি বলেছিলেন ‘বিপ্লবের পতাকা’।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ভূরাজনীতি
- ভূরাজনৈতিক অবস্থান