বাংলাদেশিদের জন্য ছোটো হয়ে আসছে পৃথিবী
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়া ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। এই সংকটের পেছনে একক কোনো কারণ নেই, বরং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু বিষয়ের জটিল মিশ্রণ দায়ী। ভিসা জটিলতায় আমাদের বিদেশে ভ্রমণ প্রায় আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমেছে।
ভিসা জটিলতা আরও বাড়ছে। ভিসা পেতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন শর্ত। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস (ব্যবসা) ও ট্যুরিস্ট (পর্যটক) ভিসার জন্য বাংলাদেশিদের পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার জামানত দিতে হবে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশিদের জন্য এ নিয়ম কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর আগস্টে জাম্বিয়া ও মালাউইর নাগরিকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ (ভিসা পেতে জামানত) বাধ্যতামূলক করে। এরপর আরো কয়েকটি দেশকে ওই তালিকায় যোগ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশকেও ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বছরে পাঁচ থেকে ছয় লাখ ভ্রমণ ভিসা দিত। সম্প্রতি এ সংখ্যাটি নেমে গেছে দুই লাখেরও কমে।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর পর্যটন ভিসা কার্যত বন্ধ করে দেয় ভারত। আর ঘোষণা ছাড়াই ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার অনেক দেশের ভিসা পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় দেশগুলোও ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় অনেক কম ভিসা দিচ্ছে। প্রতিবেশী ভারতের অবস্থায়ও তাই। আগে প্রতিদিন যেখানে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ ভারতে যাওয়ার জন্য আবেদন করতো, সেখানেও বর্তমানে মাত্র ১৫০০ থেকে ২০০০ মানুষ আবেদন করছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই মেডিক্যাল ভিসার আবেদন।
একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সেই দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অনেক উন্নত দেশ তাদের ভিসা নীতি কঠোর করেছে। নিরাপত্তার অজুহাতে অনেক দেশ বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ধীর করে দিয়েছে।
কিছু সংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিক ভিজিট ভিসা বা স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের পর দেশে ফিরে না আসার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে ভিসা প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে, যা সৎ ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি কঠিন করে তোলে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে দেশে ফিরে আসা গুরুত্বপূর্ণ।