ঢাকা শুধু নামেই মহানগর, দ্রুত বড় হচ্ছে, বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে
কনকনে শীত। কাঁঠালবাগানের রাস্তা ফাঁকা। দোকানপাট খোলেনি। বাইরে ঘন কুয়াশা, মৃদু বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝরে পড়ছে শিশির। অধিকাংশ বাসাবাড়ির মানুষ তখনো লেপ-কাঁথা-কম্বলের নিচে। প্রতিদিনের মতো বেজে ওঠে কলবেল। দরজায় গৃহকর্মী।
তিনি খণ্ডকালীন গৃহকর্মী। রাজধানীর কাঁঠালবাগানের কালভার্ট এলাকার বস্তিতে থাকেন। ৩৫ বছর আগে জামালপুর থেকে বস্তিতে এসে উঠেছিলেন। সেখানেই বিয়ে হয়। তাঁর একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তাঁদেরও বিয়ে শেষে ছেলে-মেয়ে হয়েছে। তাঁর মেয়েও একাধিক বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাঁরা সবাই বস্তিতে থাকেন।
কলবেলের শব্দে গৃহকর্তার ঘুম ভাঙে। চোখে-মুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে দরজা খোলেন গৃহকর্তা। এই গৃহকর্তা প্রায় চার দশক আগে খুলনা জেলার একটি গ্রাম থেকে এই শহরে এসেছিলেন পড়াশোনা করার জন্য। পড়াশোনা শেষ করে তিনি আর গ্রামে ফিরে যাননি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বিয়ে করে এক ছেলে নিয়ে সংসার পেতেছেন ঢাকা শহরে। এই গৃহকর্মী ও গৃহকর্তা দুজনই ঢাকা শহরে জায়গা করে নিয়েছেন।
এভাবে জায়গা দিতে দিতে ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরে পরিণত হয়েছে। আর ২৫ বছর পর বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মহানগর হবে ঢাকা। জাতিসংঘ বলছে, ২০৫০ সালে ঢাকার চেয়ে বড় শহর বিশ্বের আর কোনো দেশে থাকবে না।
ঢাকার এই বিশালত্ব নিয়ে আলোচনা কম হয়। জাতিসংঘ মনে করছে, দুটি মহানগরে আগামী ২৫ বছর জনসংখ্যা ৫ শতাংশ হারে বাড়বে। এর একটি ঢাকা, অন্যটি সাংহাই। ঢাকা যেভাবে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা।
গত কয়েক দশকে ঢাকা মহানগরের আয়তন ও মানুষ যেভাবে বেড়েছে, শহরটি সেভাবে বসবাসের উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। শহরটি অপরিকল্পিত ও অগোছালো। দুর্ভোগ পরিবহনে। আবাসনে পরিকল্পনার ছাপ নেই। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের মতো পরিষেবা নিম্নমানের। শহরে সবুজ পরিসর নেই। নেই ফুটপাত। আছে শব্দ ও বায়ুদূষণ। সমস্যার তালিকা দীর্ঘ। মহানগরজুড়ে ব্যবস্থাপনার সংকট।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- রাজধানী
- ব্যবস্থাপনা