সার্ক : নতুন সম্ভাবনার আভাস
চাঁদের আলো তেমন পরিষ্কার নয়। কিছুটা ধোঁয়াশাপূর্ণ। কোনো কিছুই পরিপূর্ণভাবে দেখা যায় না। চেনাও যায় না। কূটনৈতিক ভাষাও অনেকটাই অ্যালিগারি সমৃদ্ধ। অনেক সময় রূপক সত্যে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। আবার কোনোখানে তা কুয়াশায় মিলিয়ে যায়। এজন্য কূটনীতিকরা রহস্যময় কথার মারপ্যাঁচে ফেলেন প্রতিপক্ষকে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আর পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার আইয়াজ সাদিকের সঙ্গে ‘করমর্দন’ করার পর তিন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নড়েচড়ে বসেছেন। কারণ, কয়েক মাস আগেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধ হয়ে গেছে। সেই সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক মনোমালিন্য আরও বেড়েছে। দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। ফলে কেউ কাউকে ছেড়ে দেয় না।
তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ফিউরেনাল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং তার প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশেই ভারত-পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের দুই নেতার ঢাকায় আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেই হিসাব কষেই বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। সেসব মন্তব্য ইতিবাচকই বলব আমি।
‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজার ঠিক আগমুহূর্তে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাৎকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ভূরাজনৈতিক দিক থেকে এটিকে নতুন ইঙ্গিতও মনে করা হচ্ছে। তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের স্পিকার আইয়াজ সাদিকের সাক্ষাৎও সেই বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের এ সাক্ষাৎকে সব বিবেচনায় ইতিবাচক হিসাবেই দেখছে কূটনৈতিক মহল।’ (যুগান্তর ২ জানুয়ারি, ২০২৬)
এ বিশ্লেষণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। শেখ হাসিনা-উত্তর বাংলাদেশ এক্কাট্টা ভারতের অদূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে। কারণ, বাংলাদেশ চায়, সমতার সঙ্গে সম্মানজনক সহাবস্থান। সম্মান ও সমতার সঙ্গে ভারত কোনোদিনই আচরণ করেনি, এটি ঐতিহাসিকভাবে সত্য। সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর কোনো রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নেই। তিনি বেসরকারি এক প্রজ্ঞামতী রাজনৈতিক চরিত্র, যার শাসনামলেও ভারত ভালো আচরণ করেনি। সেই খালেদা জিয়ার প্রতি নরেন্দ্র মোদি ও ভারত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে শোক জানাতে পাঠানোর পেছনে মোদি ও বিজেপি সরকারের সম্পর্কোন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই আমি ধারণা করি।
- ট্যাগ:
- মতামত
- নতুন সম্ভাবনা
- সার্ক