গণতন্ত্র, ভোট ও মৌলিক অধিকার

www.ajkerpatrika.com সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪২

ধর্মীয় রাজনীতির মূল্য আরও বেড়েছে বিদ্যমান ব্যবস্থায় এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান হতাশায়। সমাজের ধনী যারা, তারাও আস্থা রাখতে পারছে না নিজের শক্তির ওপর। পেট্রো-ডলারের মালিকেরা নিজেরা তেমন ধার্মিক নয়। তবে ধর্মবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারলে তারা খুশি হয়। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরাও খুশি হয় ধর্মকর্ম দেখতে পেলে, এ জন্য প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে।


নিজেরা তারা পুরোমাত্রায় বস্তুতান্ত্রিক, কিন্তু এদেশবাসীকে করে রাখতে চায় আধ্যাত্মিক। উদ্দেশ্য অভিন্ন। অবনত রাখা। বলাই বাহুল্য, প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা তখনই আসবে, যখন মানুষের মানুষ হিসেবে বাঁচার আন্দোলনই প্রধান শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। এটা সম্ভব শ্রমিকশ্রেণির সঠিক রাজনৈতিক সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে।


এই সত্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে আসছে সমাজের চিন্তাশীল মানুষের কাছে। ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের নেতৃত্ব চাই। গণতন্ত্রের জন্যও চাই। গণতন্ত্রের কথা এই দেশে অনেককাল ধরে বলা হচ্ছে, কিন্তু গণতন্ত্র কখনো সুযোগ পেল না প্রতিষ্ঠিত হওয়ার।


গণতন্ত্র বলতে যদি শুধু ভোট বোঝাত, তাহলে সেই গণতন্ত্র অর্থাৎ ভোটের গণতন্ত্রও টেকেনি, কেননা নির্বাচিত সরকার স্বৈরাচারী হয়েও ক্ষমতায় টিকতে পারেনি, যেমন নির্বাচিত হয়েও কেউ কেউ ক্ষমতা পায়নি—অতীতে। কিন্তু গণতন্ত্র তো শুধু ভোটের ব্যাপার নয়, ব্যাপার মৌলিক অধিকারের। মৌলিক অধিকার সমাজে কেমন আছে, কতটা আছে তাই দেখে বুঝতে হবে দেশে গণতন্ত্র চলছে, নাকি চলছে স্বৈরতন্ত্র।


স্বাধীন দেশের এযাবৎ একটি ক্ষমতাসীন সরকারও গণতন্ত্রী ছিল না, তাদের অন্যান্য গুণ থাকা সত্ত্বেও নয়। তারা জনমত জানতে চায়নি, তাকে শ্রদ্ধা করেনি, ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাস করত না এবং জনগণকে মৌলিক অধিকার দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল না তাদের। পুরস্কার ও তিরস্কারে তারা বিশ্বাস করত, অধিকার দেওয়াতে নয়। দলীয় শাসন চেয়েছে, জাতীয় শাসন চায়নি।


তারপরে তো সামরিক শাসনই সরাসরি এবং ছদ্মবেশে এসেছে। সংস্কৃতিতে যে সামন্তবাদী উপাদানগুলো বিদ্যমান, তারা গণতন্ত্রের সমর্থক নয়। সেগুলো আনুগত্য ও বশ্যতা শেখায়, দ্বন্দ্ব শেখায় না, অন্ধকারকে পুষে রাখতে চায়, দূর না করে। সাম্রাজ্যবাদী মুরব্বিরা এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, এটা চাইবে কেন? তারা তাঁবেদার রাষ্ট্র চায়, তাঁবেদার শ্রেণির শাসন কায়েম রাখাই অভিপ্রায় তাদের। কিন্তু আজকের বিশ্বে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে চারদিকে যে ধরনের ধিক্কার ধ্বনি উঠেছে, বিশেষ করে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর দেশের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে গণতন্ত্রের একটা ভান চলছে, একধরনের ভঙ্গিও বলা যায়। এই ভান ও ভঙ্গির ব্যবস্থা থাকলেই বলা যাবে যে দেশে গণতন্ত্র আছে। বাস্তবতা কিন্তু গণতন্ত্রের ঠিক বিপরীত। তবে গণতন্ত্রের জন্য সমাজে আকাঙ্ক্ষাটা তীব্র হয়ে উঠেছে। স্বৈরশাসন অপমানকর।


তদুপরি স্বৈরশাসনে বাক্‌স্বাধীনতা থাকে না, বুর্জোয়ারা যে স্বাধীনতাকে বিশেষ মূল্যবান মনে করে। ওদিকে সরকারও চায় তার ক্ষমতায় অবস্থানটাকে দীর্ঘায়িত করে নিতে। কিন্তু সরকার যেভাবে নির্বাচনকে দেখে, রাজনৈতিক দলগুলো সেভাবে দেখে না। দলগুলো মনে করে, তাদেরকে জিততে হবে। বিরোধ আদতে এখানেই। তবে জনগণের দিক থেকে নির্বাচনে যে উৎসাহ আছে, তা বলা যাবে না। নির্বাচন তারা আগেও দেখেছে, তাতে সরকার বদল হয়েছে হয়তো, কিন্তু তাদের ভাগ্য মোটেই বদলায়নি। তা ছাড়া বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে যাঁরা প্রধান ভূমিকা নিচ্ছেন, তাঁরা সবাই একসময়ে সরকারে ছিলেন আগে-পিছে। যেমন সরকার, তেমনি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো—একইভাবে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের সমর্থক। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আছে, রাজনৈতিক দলগুলো বাইরে রয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে আলাদা করে চেনা খুব যে সহজ, তা মোটেই নয়।


তবে বুর্জোয়া রাজনীতির পক্ষে নির্বাচন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রাজনীতিকেরা ক্ষমতায় যেতে চান, ক্ষমতায় যাওয়ার উপায় দুটি—একটি নির্বাচন, অপরটি সামরিক অভ্যুত্থান। সামরিক এবং ছদ্মবেশী অভ্যুত্থানে কেউ কেউ মন্ত্রী পদ-মর্যাদায়, অন্যরা, যাঁরা পারেননি তাঁরা, কেমন করে হবেন নির্বাচন না হলে? নির্বাচনে তাঁদের আগ্রহ সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু মুশকিল হলো, নির্বাচিত যে হতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা নেই, কিংবা হতে পারলেও যে ক্ষমতা পাবেন, তারও প্রতিশ্রুতি নেই।


বললে মোটেই অত্যুক্তি হবে না যে বুর্জোয়া রাজনীতি এখন একটি কঠিন সংকটের মুখোমুখি। এমন সংকট আগে কখনো দেখা দেয়নি। তার গোটা অস্তিত্বই আজ বিপন্ন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে নির্বাচন ভিন্ন অন্য কোনো উপায় নেই ক্ষমতায় যাওয়ার। দাবার কিস্তিমাতের মতো অবস্থা। বুর্জোয়া বলেই রাজনৈতিক দলগুলো এমন কোনো আন্দোলন চায় না, যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের বিন্যাস বিপর্যস্ত হয়। অতীতের ঝাঁকুনি সহ্য করা গেছে, আগামীর ঝাঁকুনি সহ্য করা অত সহজ না-ও হতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও