নেতার হলফনামা ও বাস্তবতা: ভোটারের আস্থার সংকট কোথায়?

জাগো নিউজ ২৪ মোস্তফা হোসেইন প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪

দুই রুমের বাসা। এক রুমের চৌকিতে বিছানা পাতা। চৌকির সামান্য অংশ ফাঁকা। একজন শোয়ার জায়গা। বাকিটুকুতে বইয়ের স্তুপ। অবশিষ্ট একটি রুম কিছুটা বড়। হল ঘরের মতো। এক কোনায় রান্নার চুলা-হাঁড়ি-পাতিল। এটা একজন রাজনৈতিক নেতার বসত।


এটা পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার উখড়া এলাকায়-বর্তমান ওই জেলা সিপিএম সেক্রেটারি গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের ঠিকানা। রাজনীতি করার কারণে বিয়ে করেননি। ১৭/১৮বছর আগে যখন তাঁর ওই বাসায় গিয়েছিলাম তার দুদিন আগে তার বাবা প্রয়াত হয়েছেন। শেষকৃত্য সম্পন্ন করে পরদিনই চলে এসেছেন উখড়ায়। পার্টির কাজ আছে তাই। পেশা রাজনীতি। পার্টির ভাতায় জীবনযাপন।


পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব বসু দায়িত্ব পালনকালেও দুই রুমের বাসায় থাকতেন। দীর্ঘকাল মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী জ্যোতি বসুর জীবনযাপনও ছিলো তেমনি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধু চটি পায়ে চলতে দেখাই নয়, তিনি থাকেন একটি টালির ঘরে। সম্পদ আছে মাত্র ১৫ লাখ টাকার। রাজনীতিকেই সংসার বানিয়েছেন,তাই বিয়েও করেননি। অথচ ৭বার এমপি হয়েছেন নির্বাচনে এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী তিনি।


না এমন ভাবার কারণ নেই, ভারতেই শুধু এমন রাজনীতিবিদ আছেন। বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার পরও কারো কারো ঢাকা শহরে নিজের বাড়ি না থাকার উদাহরণ আছে। আমাদের জাতীয় নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বাড়ি-গাড়ি ছিলো না। থাকতেনও টাঙ্গাইলের সন্তোষ-এ। জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন বোরহান আহমেদ। রাজনীতি করতে গিয়ে সংসার করার সুযোগ পাননি।জীবনটাও ছিলো অতি সাধারণ। চপ্পল পায়ে চলতে দেখেছি দীর্ঘদিন। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলেরই সাবেক সভাপতি (সম্ভবত প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি)ইস্কান্দার আলীর ঢাকায় কোনো বাড়িঘর,গাড়ি কিছুই ছিলো না। সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ নির্মল সেনের কথা তো সবারই জানার কথা। এমন আরও আছে,তবে বড় দলের বড় নেতা কিংবা মন্ত্রী এমপি হওয়ার সুযোগ পাওয়া নেতাদের বাড়ি-গাড়ি নেই এমন কারো নাম জানা নেই।


আমাদের দেশের নেতাদের রাজকীয় চালচলন দেখতে পেলেও সম্পদ ও সম্পদ বৃদ্ধির তালিকা ওইভাবে জনগণ জানতে পারে না। নির্বাচন এলে প্রদর্শিত আয় ও সম্পদই দেখার সুযোগ হয়েছে সম্প্রতি। ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ হয়, যেখানে আবার সত্য-মিথ্যা তালগোল পাকানোর ঘটনাই ঘটে বেশি। জনগণ ও নেতাদের মধ্যে প্রচলিত দেওয়াল উঁচু হওয়ায় মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে ইচ্ছামতো বিত্তবান বানায়। হয়তো বা অধিকাংশ তাদের কল্পনার চেয়েও বেশি হয়ে যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও