মুক্তেশ্বরীর বুকে চেপে বসেছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

www.ajkerpatrika.com যশোর সদর প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৫, ০৯:২১

যশোর শহরের পুলেরহাটে মুক্তেশ্বরী নদীর আধা কিলোমিটার অংশ দখল করে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে। আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নামের এ প্রতিষ্ঠান দুটিতে যাতায়াতের জন্য মাঝ বরাবর মাটি দিয়ে ভরাট করে সরু করা হয় নদী। সেই সরু নদীর মাঝখানে কংক্রিটের খুঁটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে লোহার পদচারী-সেতু। সেতু ও হাসপাতালটি নির্মাণে নদীর এই অংশ এমনভাবে দখল আর শাসন করা হয়েছে যে বোঝার উপায় নেই এটিই একসময়কার প্রমত্ত মুক্তেশ্বরী।


প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর মাঝখানে বাঁধ দিয়ে একাংশ শুকিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি। সেই মাটি নদীর তীর দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনার ভরাট ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বছরের পর বছর নদী দখল আর শুকিয়ে ফেলার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি আজকের পত্রিকাকে বলেন, মুক্তেশ্বরী নদী দখলের তালিকায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালও রয়েছে। তাদের অংশে নদীর শূন্য দশমিক ৬১ একর বা ৬১ শতক দখলে রয়েছে। দ্রুতই দখলের নোটিশ পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘নদী শুকিয়ে ফেলার ঘটনা জানা নেই। তবে হাসপাতালের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া অংশটুকুর ময়লা তারা পরিষ্কার করবে, এমন একটি আবেদন করেছিল। সে অনুমতি দেওয়া হয়নি।’


ভৈরব নদের শাখানদী মুক্তেশ্বরী যশোরের চৌগাছা দিয়ে মূল শহরে ঢুকেছে। গত রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর-বেনাপোল আঞ্চলিক মহাসড়কের পুলেরহাট এলাকার সেতুর দক্ষিণ-পূর্ব কোনা থেকে নদীতীরে গড়ে উঠেছে পাঁচ শ’ শয্যাবিশিষ্ট আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। নদীর তীরে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। নদীর তীর দখল করে কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। নদীপাড়েই হাঁস-মুরগির বিভিন্ন ঘরও নির্মাণ করেছে আদ্-দ্বীন। নদীর ওপর আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত সখিনা মেডিকেল কলেজ ভবনে যাতায়াতের জন্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর দুই পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করে সরু করা হয়েছে নদী। কংক্রিটের খুঁটি নির্মাণ করার জন্য নদীর মাঝখানেও ঢালাই করা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে। পূর্ব পাশে নদীর মাঝ বরাবর নতুন করে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধ দিয়ে দুটি শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি শুকিয়ে ফেলা হয়েছে। শুকানোর পর ১০-১৫ জন শ্রমিককে সেই মাটি কেটে মেডিকেল কলেজের প্রাচীর বাঁধাইয়ের কাজ করতে দেখা গেছে। পর্যায়ক্রমে পশ্চিম অংশের পানিও শুকিয়ে মাটি কাটা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও