ক্ষমতাপ্রত্যাশীরা নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী দেখতে চায় না

প্রথম আলো মহিউদ্দিন আহমদ প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬:২৯

আজকাল কারও সঙ্গে দেখা হলেই কতগুলো প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে? নির্বাচন কি হবে? মিলিটারিরা কি ক্ষমতা নিয়ে নেবে? ইত্যাদি। নির্বাচনের কথা উঠলেই আগে বলতাম,


—ভাই, আপনি কি ক্যান্ডিডেট?


—না।


—আমিও না। তাহলে নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? যারা নির্বাচন করবে, তারা এ নিয়ে থাকুক।


এখন আর এ রকম বলতে পারছি না। দেশে একটা সরকার আছে। অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকারটাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশ যে কে চালায়, বোঝা মুশকিল। একটা কথা আমি প্রায়ই বলতাম, দেশটা আল্লাহ চালায়। এই যে একটা দেশ, সতেরো কোটি মানুষ, দুই শর বেশি দল, কারও সঙ্গে কারও বনিবনা নেই। পাঁচজন লোক একসঙ্গে বসলে পাঁচটা মত হয়। দল যত ছোট, তার নেতা তত বেশি। তারা প্রায়ই ভাঙে। তারপর শুরু করে ঐক্যপ্রক্রিয়া। এটি করতে গিয়ে দলগুলো আবারও ভাঙে। ঐক্য আর হয় না।


ইতিহাস বলে, আমরা একটা জনগোষ্ঠী হিসেবে কখনো ঐক্যবদ্ধ ছিলাম না। অনেকেই বলেন একাত্তরের কথা। তখন নাকি জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। এটাও একটা মিথ। নানা দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে সম্প্রতি আমি একটি বই লিখেছি ১৯৭১: কলকাতা কোন্দল। দেখা গেছে, আমাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়েও আমরা একমত হতে পারিনি। কলকাতায় প্রবাসী সরকারের মধ্যে ছিল দলাদলি-কোন্দল। সেটি ছড়িয়ে পড়েছিল আওয়ামী লীগের মধ্যেও। মন্ত্রীদের কারও কারও মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত হতো না।


আমরা সবাই গণতন্ত্র চাই। গণতন্ত্র কী—এ নিয়ে আমাদের ধারণা অনেকটা অস্পষ্ট ও বায়বীয়। কারণ, এ দেশে সত্যিকার গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি। চেষ্টা হলেও তা বারবার হোঁচট খেয়েছে। তারপর আমরা দেখলাম দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসন। অসামরিক ও সামরিক স্বৈরতন্ত্র, গণতন্ত্রের লেবাসে পারিবারিক অলিগার্কি এবং শেষমেশ চোরতন্ত্র। এখন আমরা মবতন্ত্রের জমানায় আছি।



১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর জেনারেল ইয়াহিয়া খান ওই সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর ভুট্টো একটা মজার ব্যাপার ঘটালেন, যার নজির নেই। তিনি ভোর চারটায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। আমাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁকেও ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি রাত তিনটায় সংবাদ সম্মেলন করে রেকর্ড বইয়ে নাম ওঠালেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা নাজুক হয়ে পড়েছিল যে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার ধৈর্য তাঁর ছিল না। তাঁর এই সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতির বিশেষ হেরফের হয়নি। তারপর এল সেনাপ্রধানের কড়া বার্তা। এ নিয়ে এখন কাটাছেঁড়া চলছে। ফেসবুকে নানান বিশেষজ্ঞ মতামত পাচ্ছি এবং আরও বিভ্রান্ত হচ্ছি।


সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কড়া গলায় বলেছেন, এনাফ ইজ এনাফ। দেশে চলছে একটা ‘ফ্রি ফর অল’ ব্যাপার। একদল লোক বলছে, এটা মানি না। আরেক দল বলছে, অমুকদের নিষিদ্ধ করতে হবে। এক নেতা তো বলেই বসেছেন, তাঁর নেতার নাম মুখে আনার আগে অজু করতে হবে। চাটুকারিতা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এটি তার একটা উদাহরণ।


কথা হচ্ছিল এক তরুণ সাংবাদিকের সঙ্গে। সম্প্রতি ছাত্ররা তথা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা একটি রাজনৈতিক দল তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে কথা হলো। সাংবাদিকের নানা প্রশ্ন। জবাব দিতে গিয়ে আমি হিমশিম খাচ্ছি। আসলে কী বলব? অনেক কিছুই তো জানি না, বুঝি না। একটা সবজান্তার ভাব ধরে থেকে কাঁহাতক আর নিজের অজ্ঞানতা কিংবা নির্বুদ্ধিতা লুকিয়ে রাখা যায়?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও