কোটাবিরোধী আন্দোলন কেন সহিংসতায় রূপ নিল?

ঢাকা পোষ্ট ইমতিয়াজ মাহমুদ প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৩

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল চেয়ে ছাত্রদের একাংশ আন্দোলন শুরু করেছিল বেশ আগে থেকেই। আন্দোলনটা প্রথমদিকে খুব লোকপ্রিয় হয়নি- দক্ষিণপন্থী কিছুসংখ্যক ছাত্র কর্মসূচিতে অংশ নিতো, কিছুক্ষণ বিক্ষোভ করে আবার চুপচাপ।


২০১৮ সালে কোটাবিরোধী এই আন্দোলনটা বেশ জমজমাট হয়ে গেল এবং আন্দোলনের ঢেউ ঢাকা ছাড়িয়ে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে গেল। আন্দোলনকারীরা প্রথমদিকে কোটা বাতিলের কথা বললেও পড়ে বলতে শুরু করলো কোটা সংস্কারের কথা।


কেননা আন্দোলন চলমান অবস্থাতেই সমাজের নানা অংশের মানুষের কথা শুনে ওদের উপলব্ধি হয়েছিল যে না, সমাজে অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর অংশের সমতায় নিয়ে আসার জন্যে কোটার প্রয়োজন আছে এবং সব কোটা বাতিলের দাবি করলে ওদের প্রতি লোকের সমর্থন থাকবে না।


সেই দফায় ওদের সাথে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা ছাড়াও অনেক সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সেইবারও আন্দোলন তীব্রতা লাভ করে কেবল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ যখন তাদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করে সেই হামলার পর।


ছাত্রলীগ যখন হামলা করে সেই হামলাটা কেউ পছন্দ করেনি এবং দেখা গেল যে ছেলেমেয়েরা নিজেদের ক্যাম্পাস রক্ষার তাগিদেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে। আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ঘোষণায় সব ধরনের কোটা বাতিল করে দিলেন।


হাইকোর্ট ডিভিশন যখন একটা রিট মামলায় কোটা বাতিলের আদেশটি অবৈধ ও এখতিয়ার বহির্ভূত বলে বেআইনি ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন, তারপর ছেলেমেয়েরা ২০২৪ সালে আবার আন্দোলন শুরু করে।


এই দফায় আন্দোলনের প্রথম থেকেই শাহবাগে এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে আন্দোলনের সমর্থকদের ভালো জমায়েত ছিল এবং ১৬ জুলাইয়ের ২০২৪-এর আগে পর্যন্ত পুরো আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ছিল বরাবরই।


পুলিশও এর আগে পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সেই রকম কোনো শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, ওদের কখনো ছত্রভঙ্গ করেনি, ওদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি। এমনকি বঙ্গভবনের সামনেও ওরা যখন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে গুলিস্তান থেকে বঙ্গবন্ধু চত্বরের দিকে গেছে, পুলিশ ওদের বাধা দেয়নি।


উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় যখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় এবং আন্দোলন প্রতিহত করার জন্যে ক্যাম্পাসে শক্তি প্রদর্শন শুরু করে। আর ১৬ জুলাইয়ের ২০২৪ তারিখে তো সারা দেশে আন্দোলনকারী, পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ছয়জন তরুণ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে শত শত।


কেবল ছাত্ররা নয়, বাংলাদেশের কোনো মানুষই সন্ত্রাস পছন্দ করে না। এটা ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, বারবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং অসংখ্যবার দেখা গেছে যে এই অনিবার্য বাস্তব কথাটি ক্ষমতায় গেলে সব রাজনৈতিক দলই বেমালুম ভুলে যায় এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করতে গিয়ে আন্দোলনকে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী করে দেয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও