গোলবাহার ও ময়ালের গল্প

www.ajkerpatrika.com ইশতিয়াক হাসান প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৬

আমাদের সৌভাগ্য, অজগরের মতো এত সুন্দর প্রজাতির সাপ এখনো বাংলাদেশে আছে। তাও একটি নয়, এর দুটি প্রজাতি দেশের বনাঞ্চলে দেখা যায়। আমার নিজেরও সরীসৃপকুলে সবচেয়ে পছন্দ অজগরই। তাই ১৬ জুলাই বিশ্ব সাপ দিবসে অজগর নিয়েই লেখা।


শুরুতে বরং গোটা বিশ্বের অজগর নিয়ে দু-চারটি তথ্য দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৪০ ধরনের বেশি অজগরের প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় অজগরদের দেখা মেলে। এরা সাধারণত উষ্ণ এবং আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে থাকতে ভালোবাসে।


অজগর গর্ত, পাথরের নিচে, স্তন্যপায়ী প্রাণীর তৈরি করা পরিত্যক্ত গর্ত এবং গাছের শাখায় বাস করে। প্রজাতিভেদে থাকার জায়গায় পার্থক্য থাকে। তবে মানুষ একে একে অজগরের আবাসস্থল দখল করে নেওয়ায়, কোথাও কোথাও এরা শহরের আশপাশে এবং খামার এলাকায় থাকাও রপ্ত করে নিয়েছে। কখনো কখনো বাংলাদেশেও মুরগির খামারে খাবারের খোঁজে অজগরের হানা দেওয়ার ও ধরা পড়ার ঘটনা ঘটে।


আকারে বিশাল কিন্তু অজগর মোটেই বিষধর নয়। এদের দাঁত অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও বিষদাঁত নেই। এরা ভালো সাঁতারুও বটে।বাংলাদেশে অজগরের দুটি প্রজাতি আছে। এর একটি বার্মিজ অজগর বা ময়াল সাপ এবং অন্যটি গোলবাহার বা রেটিকুলেটেড পাইথন।অবশ্য স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও যেকোনো ধরনের অজগরকেই ময়াল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।


ভাওয়াল-মধুপুরের শাল বন এবং সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের চিরসবুজ ও মিশ্র চিরসবুজ বনে ময়াল বা বার্মিজ অজগরের দেখা মেলে। তেমনি পাওয়া যায় সুন্দরবনেও। অবশ্য এখনো দেশের কোনো কোনো গ্রামীণ বনেও টিকে আছে এরা। এ ধরনের অজগর ৫-৬ মিটার (১৬ থেকে ২০ ফুট) লম্বা হয়। শরীরটা অনেক মোটা ও লম্বা আঁশে মোড়া।


অন্যদিকে পৃথিবীর দীর্ঘতম সাপ হলো গোলবাহার বা রেটিকুলেটেড পাইথন। সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে এখনো আছে গোলবাহাররা। লম্বায় ৯ মিটার বা ৩২ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। বার্মিজ পাইথন বা ময়ালদের মতো এদের শরীরে হলুদ বা বাদামি ছোপ থাকে। তবে এটা অনেকটা জালের আকার ধারণ করে।


এবার প্রচণ্ড সাহসী এক অজগরের গল্প বলব। ভারতের কোয়েল নদীর কাছে ঘটনাটি ঘটে। তা আজ থেকে শ দেড়েক বছর আগে তো হবেই। বর্ণনা পাওয়া যায় খনি প্রকৌশলী মারভিন স্মিথের এক বইয়ে। বুনো কুকুরদের তাড়া করা একটি শূকরকে বাগে পেয়ে শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে ২০ ফুট লম্বা বিশাল এক অজগর। একটু পরেই ঘটনাস্থলে হাজির হয় বুনো কুকুরের দল। বুনো কুকুরেরা খুব বেপরোয়া। বিখ্যাত শিকারি ও লেখক কেনেথ অ্যান্ডারসনের বইয়ে ভারতের জঙ্গলে বুনো কুকুরের দল বাঘকে মেরে খেয়ে ফেলার ঘটনারও বর্ণনা আছে।


কিন্তু কোয়েল নদীর ধারের ঘটনাটায় বুনো কুকুরদের পরাজয়ই মেনে নিতে হয়। আট সঙ্গীর মৃতদেহ ফেলে রেখে পালায় দলের বাকি সদস্যরা। অন্যদিকে বুনো কুকুরের কামড়-আঁচড়ে রক্তাক্ত হলেও অজগরটি বেঁচে যায়। বইটিতে বুনো কুকুরের দলের মোকাবিলা করার সময় অজগরটির একটি অদ্ভুত কৌশল ব্যবহারের কথা বলা হয়। এটি শক্তিশালী মাথা দিয়ে বুনো কুকুরের পাঁজরে আঘাত করে হাড় ভেঙে ফেলছিল।


অজগরের প্রজনন সময় শুরু ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে। মিলনের তিন-চার মাস পর এরা ডিম দেয়। স্ত্রী অজগর ডিমের চারদিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে তা দেয়। ময়ালরা মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ৫০-১০০টি ডিম দেয়। গোলবাহাররা বর্ষার গোড়ায় ১০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়।


সাধারণত বন্য প্রাণী পানি খেতে আসে এমন জায়গায় লুকিয়ে মরার মতো পড়ে থাকে। শিকারকে প্রথমে কামড়ে ধরে, তারপর দেহের বিভিন্ন ভাঁজে একে পেঁচিয়ে দম বন্ধ করে মেরে ফেলে। এরপর ধীরে ধীরে খায়। একটি বড় প্রাণী খাওয়ার পর কয়েক দিন স্থির মরার মতো পড়ে থাকে অজগরেরা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও